নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ঢাকার মিরপুরে হযরত শাহ আলী বাগদাদী (রহ.)-এর মাজারে উগ্রপন্থীদের সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে দেওয়ানবাগ শরীফ। শুক্রবার (২২ মে) বাদ জুমা আরামবাগের বাবে রহমত দেওয়ানবাগ শরীফের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় বক্তারা বলেন, নির্বাচিত সরকার দায়িত্বে আসার পরও মাজার-দরবার ও সুফিপন্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া চরম দুঃখজনক বিষয়।
তারা বলেন, আল্লাহর অলীদের মাধ্যমে এই দেশে ইসলাম এসেছে। তাদের মাজার-দরবারে হামলা মানে ইসলামের ওপর আঘাত করা।
মাজার কেন্দ্র করে একটি অসাধু শ্রেণির অসামাজিক কার্যকলাপের নিন্দা জানিয়ে বলা হয়, আল্লাহর অলীদের মাজার-দরবার পবিত্র স্থান। এখানে সমাজবিরোধী কোনো কার্যক্রম হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানান বক্তারা।
দেওয়ানবাগ শরীফের সমন্বয়ক ও মোহাম্মদী ইসলামের নেতৃত্ব প্রদানকারী ইমাম প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা হুজুর বলেন, ‘এই দেশ শুধু ওয়াহাবিদের হবে না, আবার শুধু সুন্নিদের হবে না। এই দেশে সবাই শান্তিতে বসবাস ও যার যার ধর্ম পালনের সমান অধিকার রাখেন।’
বাংলাভিশনের গুগল নিউজ ফলো করতে ক্লিক করুন
আউলিয়াদের মাজার ও সুফিপন্থীদের ওপর হামলা আশেকে রাসুলরা নীরবে মেনে নেবেন না বলে উল্লেখ করেন ইমাম কুদরত এ খোদা।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, প্রতিটি অলী-আল্লাহর মাজার আমরা দেওয়ানবাগ শরীফ পাহারা দেব। আপনারা আর কোনো অলীর মাজারে হামলা করার দুঃসাহস দেখাবেন না।
বিশ্ব সুফি সংস্থার কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য আফতাব আলম জিলানী বলেন, কোনো সুফির দরবারে শিশু নির্যাতন, নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে দরবার-মাজারে হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া হয় সেখানে প্রতিনিয়ত শিশুরা যৌন নির্যাতনের পাশাপাশি নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে। এই দুশ্চরিত্রবানদের হাতে আমরা শান্তিপ্রিয় সুফিরা আর নির্যাতিত হব না। হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর শিক্ষা নিয়ে আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলব।
সহযোগী অধ্যাপক ড. নাসির উদ্দিন সোহেল বলেন, তোমরা মাজার ভাঙতে পারবে, কিন্তু অলী-আল্লাহগণের প্রতি ভালোবাসা আমাদের হৃদয় থেকে মুছতে পারবে না।
আরও বক্তব্য রাখেন দেওয়ানবাগ শরীফের সহকারী মুখপাত্র মো. জহিরুল আলম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহ শিবলী নোমান ও ইসলামী বক্তা আলহাজ মাওলানা সাব্বির আহমাদ ওসমানী।
গত ১৪ মে, বৃহস্পতিবার রাতে সাপ্তাহিক জলসা চলাকালে শাহ আলী মাজারে ‘তৌহিদি জনতা’ পরিচয়ে হামলা করে একদল উশৃঙ্খল মানুষ। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে শতাধিক মাজার-দরবারে হামলা হয়েছে।