1. nskibria2012@gmail.com : যুগ যুগান্তর : যুগ যুগান্তর kibria
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৩ পূর্বাহ্ন

শি জিনপিংকে কেন ঈগলের ভাস্কর্য উপহার দিলেন ট্রাম্প?

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৬ বার পঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে একটি বল্ড ঈগলের ভাস্কর্য উপহার দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই পাখির ভাস্কর্য উপহারের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রতীকী একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রে শি’র তিন দিনের সফরের দ্বিতীয় দিনে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে দুই নেতার বৈঠক হয়। পরে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে শির হাতে ঈগলের ভাস্কর্য তুলে দেন ট্রাম্প।

নৈশভোজে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, বল্ড ঈগল যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রতীক এবং এটি ‘আমেরিকার স্বাধীন ও আকাশে উড্ডীয়মান চেতনাকে’ ধারণ করে।

আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে উপহার বিনিময় দীর্ঘদিনের একটি প্রচলিত রীতি। তবে এর সঙ্গে শুধু সৌজন্য নয়, অনেক সময় প্রতীকী ও কূটনৈতিক বার্তাও জড়িয়ে থাকে। শি’কে ঈগলের ভাস্কর্য দেওয়ার ঘটনাটিও সেই বৃহত্তর কূটনৈতিক উপহার-বিনিময়ের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বল্ড ঈগল কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বল্ড ঈগল যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম পরিচিত জাতীয় প্রতীক। পাখিটির শক্তি, স্বাধীনতা ও বিস্তৃত আকাশে উড্ডয়নের ভাবমূর্তি দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেট সিলেও বল্ড ঈগলের প্রতিকৃতি রয়েছে। সেখানে ঈগলটির এক পায়ে জলপাইয়ের ডাল এবং অন্য পায়ে তীর দেখা যায়- যা শান্তি ও যুদ্ধের প্রস্তুতির প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।

ফলে চীনের রাষ্ট্রপ্রধানকে এই পাখির ভাস্কর্য উপহার দেওয়া নিছক একটি স্মারক উপহার নয়; এর মধ্যে মার্কিন জাতীয় প্রতীকের উপস্থিতিও রয়েছে।

ট্রাম্প নিজেই নৈশভোজে ঈগলের প্রতীকী অর্থ ব্যাখ্যা করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীন ও ঊর্ধ্বমুখী চেতনার প্রতিনিধিত্ব করে।

কূটনীতিতে উপহারের আলাদা গুরুত্ব
রাষ্ট্রীয় সফর ও শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে উপহার বিনিময় আন্তর্জাতিক কূটনীতির পুরোনো রীতি। কোনও দেশের নেতা অন্য দেশের নেতাকে যে উপহার দেন, তার মাধ্যমে অনেক সময় নিজের দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ কিংবা সম্পর্কের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

তবে কূটনৈতিক উপহার দেওয়া সব সময় সহজ বিষয় নয়। উপহারের ধরন, মূল্য, সাংস্কৃতিক তাৎপর্য এবং সেটি কী বার্তা বহন করছে- সবকিছুই বিবেচনায় নেওয়া হয়।

বিশেষ করে বিশ্বের দুই পরাশক্তির নেতাদের মধ্যে উপহার বিনিময়ের ক্ষেত্রে প্রতিটি প্রতীকের আলাদা গুরুত্ব থাকতে পারে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে উপহার দেওয়া একটি মূল্যবান, তবে কখনও কখনও জটিল দিক। কারণ একটি উপহার একদিকে যেমন বন্ধুত্ব ও সৌজন্যের বার্তা বহন করতে পারে, অন্যদিকে তার সাংস্কৃতিক বা রাজনৈতিক প্রতীকী অর্থও থাকতে পারে।

ট্রাম্প-শি সম্পর্কের নতুন অধ্যায়?
ট্রাম্পের দেওয়া ঈগলের ভাস্কর্য এমন এক সময়ে শি’র হাতে উঠেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন তাদের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে।

দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, তাইওয়ান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ইরানসহ বিভিন্ন ইস্যুতে মতপার্থক্য রয়েছে। এর মধ্যেও ট্রাম্প ও শি সরাসরি যোগাযোগ ও আলোচনার ওপর জোর দিচ্ছেন।

বৃহস্পতিবারের বৈঠককে ট্রাম্প নিজেই ‘দারুণ বৈঠক’ বলে অভিহিত করেছেন। শিও দুই দেশের মধ্যে সংঘাত এড়িয়ে নিয়ন্ত্রিত ও ‘স্বাস্থ্যকর’ প্রতিযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

এই প্রেক্ষাপটে শিকে ঈগলের ভাস্কর্য উপহার দেওয়ার ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কের বৃহত্তর কূটনৈতিক আবহের একটি প্রতীকী মুহূর্ত হয়ে উঠেছে। তবে উপহারটি দুই দেশের মৌলিক মতপার্থক্য দূর করার কোনও আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নয়; বরং রাষ্ট্রীয় সফরের আনুষ্ঠানিকতা ও কূটনৈতিক সৌজন্যের অংশ হিসেবেই এটিকে দেখা হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..