নিজস্ব প্রতিবেদক
ফাইল ছবি
পল্লবীতে প্রকাশ্যে সন্তানের কুপিয়ে সাহিনউদ্দিন (৩৩) নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার মামলায় আসামি মো. সুমন বেপারী দায় স্বীকার করে আদালত জবানবন্দি দিয়েছেন।
সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারীর আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এদিন আসামি সুমন ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এ সময়ে আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এদিকে গতকাল রোববার তিন আসামি শরীফ, টিটো ও ইকবালকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের দশ দিন করে রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক সৈয়দ ইফতেখার হোসেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তিনজনের চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত শনিবার এ মামলায় দুই আসামি মো. রকি তালুকদার ও মুরাদ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এরপর তাদের দুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার আসামি মো. সুমন বেপারী ও মো. রকি তালুকদারের পাঁচদিন এবং মুরাদের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। তার পরদিন শুক্রবার এ মামলার প্রধান আসামি লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সাবেক এমপি ও ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এম এ আউয়ালসহ তিনজনের ঢাকা মহানগর হাকিম নিভানা খায়ের জেসীর আদালত চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ডে যাওয়া অপর আসামিরা হলেন-জহিরুল ইসলাম বাবু ও হাসান। একই দিন এ মামলার অপর আসামি দিপুর রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
গত ১৬ মে হত্যাকাণ্ডের পর ওই রাতেই নিহতের মা আকলিমা বেগম বাদী হয়ে পল্লবী থানায় আউয়ালসহ ২০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর মামলাটি ডিবি পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- সুমন, মো. আবু তাহের, মুরাদ, মানিক, মনির, শফিক, টিটু, কামরুল, কিবরিয়া, দিপু, আবদুর রাজ্জাক, মরন আলী, লিটন, আবুল, বাইট্যা বাবু, বড় শফিক, কালু ওরফে কালা বাবু, নাটা সুমন ও ইয়াবা বাবু।
মামলার এজাহারে আকলিমা বেগম বলেন, গত ১৬ মে বিকেল ৪টার দিকে সুমন ও টিটু নামের দুই যুবক সাহিনুদ্দিনকে জমির বিরোধ মেটানো হবে জানিয়ে ফোন করে ডেকে নেন। সাহিন উদ্দিন মোটরসাইকেলে পল্লবীর ডি-ব্লকের ৩১ নম্বর সড়কের ৪০ নম্বর বাসার সামনে গেলে সুমন ও টিটুসহ ১৪-১৫ জন মিলে তাকে টেনেহিঁচড়ে ওই বাড়ির গ্যারেজে নিয়ে যায়। এ সময় সাহিন উদ্দিনের ছয় বছরের ছেলে মাশরাফি গেটের বাইরে ছিল। গ্যারেজে ঢুকিয়ে তাকে সন্ত্রাসীরা চাপাতি, চায়নিজ কুড়াল, রামদা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এরপর তাকে ওই গ্যারেজ থেকে বের করে ৩৬ নম্বর বাড়ির সামনে আবার কুপিয়ে ফেলে রেখে চলে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহতের মায়ের অভিযোগ, পল্লবীর সেকশন-১২ বুড়িরটেকের আলীনগর আবাসিক এলাকার হ্যাভেলি প্রোপার্টিজ ডেভেলপার লিমিটেডের এমডি এবং লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সাবেক এমপি এম এ আউয়ালের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভাড়া করা স্থানীয় সন্ত্রাসীরা সাহিনুদ্দিনকে হত্যা করেছে। আনুমানিক পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের ১০ একর জমি জবরদখলে বাধা দেওয়ায় তাকে খুন করা হয়েছে। নিহত সাহিন উদ্দিনের বাসা পল্লবীর ডি-ব্লকে।
উল্লেখ্য, রোববার ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এ মামলার আসামি মনির নিহত হয়েছে। আড়াইটার দিকে পল্লবীর সাগুফতা হাউজিং এলাকায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি টিমের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে সে নিহত হয়। এর আগে গত গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পল্লবীর ইস্টার্ন হাউজিং এলাকায় একই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. মানিক র্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়।
Leave a Reply