রাবি প্রতিনিধি:
গত ২ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ট্রাক চাপায় মারা গেছেন চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী মাহমুদ হাবিব হিমেল। সেই হিমেলের রক্তের দাগ না শুকাতেই দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত হয়েছেন আরেক শিক্ষার্থী সাফফাত নায়েম নাফি।
নাফি রাবির পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের (২০১৯-২০ সেশন) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতিহার হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠানো হয়েছে।
জানা যায়, বুধবার দিবাগত প্রায় ১২টার দিকে বিনোদপুরের এম আর ছাত্রাবাসে অবস্থানরত কিছু শিক্ষার্থীদের মধ্যে হওয়া এক সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে। ছাত্রাবাসে অবস্থানরত অ্যাডমিশনের এক শিক্ষার্থী অবস্থানরত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অপর এক শিক্ষার্থীকে বারবার নামাজের জন্য বলায় বিরক্ত হয়ে উভয়ের মধ্যে ঝামেলা সৃষ্টি হয়। সমস্যা সমাধানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐ শিক্ষার্থী তার সিনিয়রদের ডাকেন।
উদ্ভুত সমস্যা সমাধানের জন্য রাবির ১০-১৫ জন শিক্ষার্থী সেই ছাত্রাবাসে যান। ঘটনার সমাধান শেষে মেসের বাইরে থাকা ৪-৫ জনের সঙ্গে তাদের ঝামেলা বাধে। ঝামেলার এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয় এবং ছুরিকাঘাতে নাফি আহত হন। পরবর্তীতে গুরুতর অবস্থায় নাফিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (রামেক) ৪নং ওয়ার্ডে ভর্তি করেন তার সহপাঠীরা।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে এই ঘটনার প্রতিবাদ ও অভিযুক্তদের নিশ্চিত করে শাস্তির দাবিতে রাবি ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি করেছে শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচিতে বিভিন্ন বিভাগের প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলো।
পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ইবরাহীম বলেন, হিমেল ভাইয়ের রক্তের দাগ না শুকাইতেই আমার বন্ধুকে ছুরিকাঘাতে আহত করা হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজে রক্তাক্ত অবস্থায় আমার বন্ধু ভর্তি আছে। এভাবে আর কত রক্ত আমাদের দিতে হবে। আমাদেরকে দেশের প্রথম শ্রেণির নাগরিক মনে করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপদ আইন করা সময়ের দাবি। আহত শিক্ষার্থীর সুচিকিৎসা ও যাবতীয় খরচ পরিবহনসহ দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধের গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।
কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা এই ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও আইনের আওতায় আনতে দুইদিন সময় বেঁধে দেন। এর মধ্যে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে রাবি ভিসি অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, আমরা অতি দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনতে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। একই সঙ্গে ঐ মেস মালিককে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে আশেপাশের সব মেস মালিককের সঙ্গে আলোচনায় বসার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভিসি আরো বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য আহত শিক্ষার্থীকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তার সব চিকিৎসা ব্যয়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গ্রহণ করবে।
এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়া, ছাত্র উপদেষ্টা ড. তারেক নূর, প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালেহ আহমেদ নকীব উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার আলী তুহিন বলেন, আমরা এখনো লিখিত অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ না পাওয়া পর্যন্ত আমরা কিছু করতে পারবো না।
Leave a Reply