নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজপথে জোরালো আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রোষানলে পড়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
দলের বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, সাংগঠনিক শক্তি পুনরুজ্জীবিত করতে মহাসচিব পরিবর্তনের তাগিদ দিয়েছেন তারেক। এছাড়া রাজপথে জোরালো আন্দোলন করতে না পারায় তারেক রহমানের পর্যবেক্ষণেও আছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
দল বেকায়দায় থাকায় আপাতত তাকে মহাসচিব পদ থেকে না সরালেও সুবিধাজনক সময়ে তার পরিবর্তে নতুন কাউকে ঐ পদে বসাতে চান তারেক। এ বিষয়ে দলের শীর্ষ পদের নেতাদের হেয়ারিং দিয়েছেন তিনি।
মির্জা ফখরুলের ব্যর্থতা নিয়ে তারেক রহমানের বিক্ষুব্ধ অবস্থানের কারণ জানতে দলের স্থায়ী কমিটির একজন সদস্যের সঙ্গে কথা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঐ নেতা বলেন, খালেদা জিয়াকে আন্দোলন করে মুক্ত করার জন্য লন্ডন থেকে তারেক রহমান মির্জা ফখরুলের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। এরপর মির্জা ফখরুল গুলশানের বাসায় গিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং এ বিষয়ে করণীয় জানতে চান। তখন খালেদা জিয়া তাকে কঠোর আন্দোলনে না যাওয়ার নির্দেশ দেন। এতে বিক্ষুব্ধ হন তারেক। আর সে কারণেই এসব কর্মসূচি না দিয়ে বার বার কঠোর আন্দোলন শুরু করতে আব্দুল্লাহ আল নোমানকে নির্দেশ দেন তারেক।
তবে হঠাৎ মহাসচিবের পরিবর্তে অন্য নেতার নেতৃত্বে বিএনপি রাজপথ উত্তপ্ত করার বিষয়টি ব্যাপক জল্পনা-কল্পনার জন্ম দেয়। আর মির্জা ফখরুলকে বেকায়দায় ফেলতেই তারেক রহমানের অনুসারীরা নোমানকে দিয়ে রাজপথে আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছেন, এমন গুঞ্জনও চাউর হয়েছে দলের অভ্যন্তরে।
জানা যায়, দলীয় কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান ও ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খানের পদত্যাগপত্র জমা দেয়া হলেও মির্জা ফখরুল বিষয়টি জানেন না বলায় তারেক রহমান তার ওপর নাখোশ হয়েছেন। তারেক রহমান মির্জা ফখরুলের এমন অবস্থান মেনে নিতে পারছেন না। ফলে পারস্পরিক অবিশ্বাস আর কাদা ছোড়াছুড়ি কারণে সর্বস্তরে দলীয় কর্মকাণ্ডে বিএনপিতে অচলাবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে।
Leave a Reply