কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
আজ ঐতিহাসিক বড়াইবাড়ি দিবস।কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ২০০১ সালের ১৮ এপ্রিল গভীর রাতে ভারতীয় বিএসএফ ভারত বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার ৬৫ থেকে ৬৭ পিলার অতিক্রম করে বড়াইবাড়ি ক্যাম্প এলাকায় প্রবেশ করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। বড়াইবাড়ী গ্রামে ঢুকে নারকীয় তাণ্ডব চালায়। অকুতোভয় তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) ও গ্রামবাসীর মিলিত প্রতিরোধে পর্যদুস্তু হয় তারা। এ ঘটনায় প্রাণ হারান বিডিআরের তিন সদস্য। পুড়ে ছাই হয়েছিল বড়াইবাড়ী গ্রামের ৮৯টি বাড়ি।এ লড়াই চলে ৪২ ঘণ্টা। সেবার নগ্ন হামলার দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়েছিল বিডিআর ও বীর জনতা। ১৬ জন সৈন্যের লাশ ফেলে পালিয়ে গিয়েছিল বিএসএফ। তিনজন বীর বিডিআর সৈনিক শাহাদাত বরণ করেছিলেন দেশের স্বাধীনতা অক্ষুণ্য রাখতে। সাতজন বিডিআর সদস্যের পাশাপাশি ছয়জন গ্রামবাসীও আহত হন। গ্রামবাসীর হাতে ধরা পড়ে অক্ষয় কুমার ও বিমল প্রসাদ নামক দুই বিএসএফ সদস্য। যুদ্ধের প্রথম দিকে ইন্ডিয়া ১৬ জন সৈন্যের নিহত হওয়ার খবর অস্বীকার করে বলে, আমাদের মাত্র তিনজন বিএসএফ নিহত হয়েছে। কিন্তু বিডিআর যখন এক এক করে ১৬ জন বিএসএফের লাশ হস্তান্তর করে ভারতের কাছে, তখন সত্য স্বীকার করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।
দিবসটি উপলক্ষ্যে বড়াইবাড়ী দিবস উদযাপন কমিটি রৌমারীতে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আয়োজন করা হয়েছে বর্ণাঢ্য র্যালি, বড়াইবাড়ী গ্রামে শহিদদের স্মৃতিস্তম্ভে আলোচনাসভা ও মিলাদ মাহফিল। সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন, সাবেক এমপি রুহুল আমিন, রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান, উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল্লাহ, ওসি মোন্তাছের বিল্লাহ, বিজিবি জামালপুর অধিনায়ক লে. কর্নেল মোন্তাছের মামুন, বড়াইবাড়ী ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার আব্দুস সবুর ও শহিদ পরিবারের লোকজন।
Leave a Reply