নিজস্ব প্রতিবেদক:
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম বলেছেন, বিএনপিসহ যেসকল রাজনৈতিক দল ঐতিহাসিক মুজিব নগর দিবস পালন করে না। তারা এখনও বাংলাদেশ বিশ্বাস করে না। তারা পাকিস্তানের পেত্মাত্বা। এই বিরোধীরাই বাংলাদেশকে ফের পাকিস্তান বানানোর ষড়যন্ত্র করছে।
বুধবার (২০ এপ্রিল) ২৩, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির উদ্যোগে আলোচনা সভা, ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মহানগর উত্তর মৎস্যজীবী লীগ সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক মো: দেলোয়ার হোসেন এর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মো: আব্দুল জলিল এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম।
প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. আবদুস সোবহান গোলাপ এম.পি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সায়ীদুর রহমান, কার্যকরী সভাপতি মো: সাইফুল আলম মানিক, সাধারণ সম্পাদক লায়ন শেখ আজগর নস্কর, সহ-সভাপতি গিয়াস খান, মোহাম্মদ আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আলিম, রফিকুল ইসলাম খা, আলহাজ্ব ফিরোজ আহমেদ তালুকদার, প্রচার সম্পাদক শফিউল আলম শফিক, দপ্তর সম্পাদক এনামুল হক রাজু। অনুষ্ঠানের সার্বিক পরিচালনা করেন মহানগর উত্তর আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু আজম খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মায়া বলেন, বিএনপি নির্বাচন মানে না, নির্বাচন কমিশন মানে না, দেশের আইন মানে না। বিএনপি আগুন সন্ত্রাসের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখে। বিএনপি আন্দোলনের নামে দেশে আগুন সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চায়। তারা চায় পিছন দরজা দিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতে। এদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া আরও বলেন, ১৯৭১ সালে ঐতিহাসিক মুজিব নগর সরকারের অধীনে বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়।
তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান অন্তরে অন্তরে পাকিস্তানের পক্ষে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। তার জিবদ্দশায় মুক্তিযুদ্ধে তার কোন কৃতিত্ব নাই। তার কাজই ছিল পাকিস্তানে সাহায্য সহযোগীতা করা। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি পুরো বাঙ্গালি জাতির সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. আবদুস সোবহান গোলাপ বলেন, এই সেই ঐতিহাসিক মুজিব নগর দিবস। যে দিবসটিতে পাকিস্তানের কারাগারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন। কিন্তু বাঙ্গালিদের আন্দোলনের মুখে ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পাকিস্তানীরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে পারেনি।
আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের জন্য আজকে অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আজ অতি বিপ্লবীরা অনেক বাজে বাজে বক্তব্য রাখছে। কিন্তু তারা ভোটের মাঠে দাঁড়ালে দুটো ভোটই পাবে না। অথচ সরকার উৎখাতের জন্য হুংকার দিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, আজকে দেশে এতো উন্নতি হচ্ছে। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশকে সারা বিশ্বে উন্নয়নের মডেল হিসেবে আখ্যায়িত করছে। আজ দেশের প্রতিটি মানুষ ভালো আছে এবং শান্তিতে আছে। দেশে একের পর এক মেঘা প্রজেক্টগুলো উদ্বোধন ও দৃশ্যমান হচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিচু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এত উন্নয়ন, এত অগ্রযাত্রা তারপরেও শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটানোর ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ষড়যন্ত্রকারীরা অপপ্রচার করছে। তারা পিছনের দরজা দিয়ে অগণতান্ত্রিক পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতে চায়। এরা নির্বাচনকে ভয় পায়, দেশের জনগণকে ভয় পায়, আওয়ামী লীগের উন্নয়নকে ভয় পায়। এদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে। যেনো দেশের চলমান উন্নয়ন অগ্রযাত্রা বাঁধাগ্রস্থ না করতে পারে।
আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ আরও বলেন, ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাধ্য দিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চেয়েছিলো। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মানবঢাল তৈরি করে তাকে বাঁচিয়েছিলো। সেদিন নারী নেত্রী আইভী রহমান সহ আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী নিহত হয়েছিলেন।
Leave a Reply