মিজানুর রহমান মিরু শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদ জাতিয় পাটি
—————————————————————————–সরকারী তিতুমীর কলেজে এইচ.এস.সি পড়ার সময় কাল থেকেই রাজনীতির মাঠে বিচরণ হলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স পড়া অবস্থায় ছোট্ট একটা পদবী ঢাকা মহানগর উত্তর এর’যুগ্ম-প্রচার সম্পাদক’ দিয়ে এমপি-মন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখা শুরু করি। এরশাদ মুক্তির আন্দোলন -সংগ্রামে দিনের পর দিন কাক ডাকা ভোরে হরতাল- বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পার্টির দেওয়া প্রোগ্রামে উপস্থিত থাকার যে বাহাশ হতো সেখানে কখনো তৃতীয় না হয়ে প্রথম অথবা দ্বিতীয় স্থানে থেকেছি। টিয়ার সেলের ঝাঁঝালো গন্ধে কখনো নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে,আবার কখনো রাবার বুলেটের আঘাতে শরীর থেকে ছুপছুপ রক্ত ঝড়েছেে। ভয়ে ভীতু হয়ে হাত পা গুটিয়ে কখনো ঘরে বসে থাকিনি।পদ-পদবীর ক্ষেত্রে বাই রুটেশানে যোগ্যতার বলে জাতীয় ছাত্র সমাজ ঢাকা মহানগর উওরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সহ-সভাপতি, এরপর কেন্দ্রীয় সদস্য, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগী),যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সহ সভাপতি, যুগ্ম আহবায়ক হয়েছি। কেন্দ্রীয় সভাপতি সাধারণ সম্পাদক পদে অনেক বার প্রার্থী হলেও পল্লীবন্ধু’র সাচ্চা কর্মী হওয়ার কারনে বঞ্চিত হয়েছি বারবার। ২০১৪ সালের ২৭ শে মার্চ মরহুম সৈয়দ মিজানুর রহমান হিমু’র সভাপতিত্বে একটি সফল সম্মেলনের মাধ্যমে জাতীয় ছাত্র সমাজ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি হিসেবে সৈয়দ মোঃ ইফতেকার আহসান হাসান এবং আমাকে সাধারণ সম্পাদক এর দায়িত্ব দেওয়া হয়। জাতীয় ছাত্র সমাজের দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়ে ২০১৮ সাল পর্যন্ত জাতীয় ছাত্র সমাজ’কে সারা বাংলাদেশে প্রতিটি জেলায় সুসংগঠিত করার চেষ্টা করি। ৭৬টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ৬০টি জেলায় সম্মেলন, কর্মীসভার মাধ্যমে কমিটি করতে সক্ষম হই। ছাত্র রাজনীতির এই দীর্ঘ সময়ে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান পল্লীবন্ধু আলহাজ্ব হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ স্যারের মতের,পথের এবং চোখের আড়ালে যাই নি। চোখের সামনে আনোয়ার হোসেন মন্জু যোগাযোগ মন্ত্রী থাকা অবস্থায় দল ভাগ করলেন। অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়ার জন্য অনেকেই পল্লীবন্ধু’কে ছেড়ে, তাকে গালমন্দ করে দলের সাথে বেইমানি করে চলে গিয়েছিল।। আমার মতো অনেকেই আজ তাদের অর্থের নিকট জিম্মি হয়ে নিজ দলে পরবাসী হয়ে রয়েছি। এরপর নাজিউর রহমান মন্জু দল ভাগ করলেন। অর্থনৈতিক সুবিধা, ক্ষমতা এবং টাকার লোভের কারনে আবারও কিছু নেতাকর্মী পল্লীবন্ধু’কে গালমন্দ করে, দলের সাথে বেইমানি করে চলে গেলেন। তাহারাও পকেট ভর্তি টাকা নিয়ে আবার চলে আসলেন। এরপর ফেরদৌস আহমেদ কুরাইশী দল গঠন করলেন। টাকা আর টাকা, ক্ষমতা আর ক্ষমতা,লোভ আর লালসায় কতো জনই না চলে গেলেন। সকলেই পকেট ভর্তি টাকা নিয়ে ফিরে আসলেন নিজ ঘরে। তাদের টাকার ঝাঁঝালো গন্ধে,অনেকের চেয়ার আজ নড়বড়ে । সর্বশেষ ২০১৪ সালে কাজী জাফর সাহেবের নেতৃত্বে দল ভাগ করে দল ত্যাগ করেছেন অনেকে। আমার মতো অনেকেই না পেয়েছি সুযোগ সুবিধা, না গিয়েছি অন্য কোন দলে। নিজের কষ্টার্জিত অর্থ, ঘাম এবং শ্রমের বিনিময়ে এখনো এই দলটি করে যাচ্ছি আপন প্রানে। আস্থা এবং বিশ্বাস রয়েছে বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের স্যারের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টিতেই।। তবে আমার মতো অনেক নেতাকর্মীদের অর্থ, ঘাম এবং পরিশ্রমের বিনিময়ে এই দল তখন টিকে ছিল বলেই দলছুট নেতারা এবং কিছু হাইব্রিড টাকা ওয়ালা এই দলে আসতে উৎসাহী হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যিটা হচ্ছে আমাদের মতো নিবেদিত কর্মীদের বারবার পরীক্ষার পর পরীক্ষা দিয়ে পদ পদবী নিতে হয়েছে। বারবার বঞ্চিত হয়েছি কাঙ্খিত লক্ষ্য থেকে । অনেকেই খাতায় কিছু না লিখে জিপিএ-৫ পেয়ে যাচ্ছে।হয়তোবা রাজনীতিতে যাহারা দলের মুল স্রোতের সাথে থাকে,দলের প্রতি নিষ্ঠাবান হয়,দলীয় প্রধানের প্রতি আস্থাশীল থাকে, তাদের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাহারা সবসময়ই অবহেলিত এবং বঞ্চিত। দল আমাকে বহিষ্কার করতে হয়তোবা দুই মিনিট সময় লাগবে না কিন্তু গত ত্রিশ বছরে এক মিনিটের জন্য দলটি ছাড়তে পারিনি। আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্ষমতা আর লোভ,লালসায় মেতে উঠবে কর্মীদের রক্ত পিপাসু একদল ষড়যন্ত্র কারীরা। তখন আবার আমার মতো যাদের রক্তের প্রতিটি কনায়,শিরা, উপশিরায়, প্রতিনিয়ত ধ্বনিত হচ্ছে জাতীয় পার্টি,তাহারাই পল্লীবন্ধু”কে স্মরণ করে শোক”কে শক্তিতে পরিনত করে সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে পার্টির পতাকা হাতে এগিয়ে যাবে গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের নেতৃত্বে আপন গতিতে।
Leave a Reply