নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর ৯০ শতাংশ পয়ঃবর্জ্য পড়ে নদীতে; বাকি ১০ শতাংশ শোধন করতে পারে সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা ঢাকা ওয়াসা। এসব পয়ঃবর্জ্য ঢাকা ও এর চারপাশের নদী, খাল এবং জলাশয়ে মিশে পরিবেশ-প্রতিবেশের চরম দূষণ করছে। দিন দিন বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে রাজধানী। চর্ম, ফুসফুসসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন নগরবাসী।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওয়াসার সংশ্নিষ্টদের চরম গাফিলতিতে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পয়ঃবর্জ্য নিয়ে বিদ্যমান সমস্যা কয়েক যুগের। বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিস্কাশন ঢাকা ওয়াসার প্রধান কাজ হলেও বরাবরই প্রতিষ্ঠানটির পয়ঃনিস্কাশন কাজে আগ্রহ কম। ফলে ষাটের দশকে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা ওয়াসা নগরবাসীকে চাহিদার আলোকে পানি সরবরাহ করতে সক্ষম হলেও পয়ঃনিস্কাশন সেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। কবে নাগাদ ঢাকাবাসীর পয়ঃনিস্কাশন সেবা নিশ্চিত হবে, এটা জানে না কেউ। পয়ঃবর্জ্য নিস্কাশনসহ সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে ঝুঁকিতে পড়ছে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য। সচেতনতা সৃষ্টি, প্রযুক্তির ব্যবহার, পরিকল্পনার মাধ্যমে পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার ব্যবহার করা গেলেও স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এ ছাড়া রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি ও বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির ফলে ড্রেনেজ লাইনের সঙ্গে স্যুয়ারেজের বর্জ্য মিশে যাচ্ছে।
এ ধরনের সমস্যার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণের লক্ষ্যে আজ শনিবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব টয়লেট দিবস। স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারের প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করে ২০০১ সাল থেকে দিবসটি পালন শুরু হয়। ২০১৩ সালে জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে এর স্বীকৃতি দেয়। দিনটি পালনের উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার ব্যবহারে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য শৌচাগারের সুবিধা নিশ্চিত করা।
ঢাকা ওয়াসার সংশ্নিষ্টরা বলছেন, পয়ঃশোধনাগার প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে ঢাকা শহরের ১২৯ বর্গকিলোমিটার এলাকার পয়ঃবর্জ্য সমস্যার সমাধান হবে। তবে এটি বাস্তবায়ন করতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত বা তার চেয়ে কিছু বেশি সময় লাগবে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও জাতিসংঘ শিশু তহবিল ইউনিসেফের ২০১৯ সালের গুচ্ছ জরিপ বা মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভের (মিকস) ফলাফলে বলা হয়েছে, দেশে পয়ঃনিস্কাশন সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্যও অনেক। ধনীদের তুলনায় দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের অনুন্নত স্যানিটেশন ব্যবহারের হার ৯ গুণ।
বাংলাদেশ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাছের খান বলেন, বর্তমানে ঢাকা ওয়াসা সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পয়ঃবর্জ্য শোধন করতে পারছে। ঢাকা ওয়াসাকে এখান থেকে বের হয়ে আসতে হলে পর্যাপ্ত সংখ্যক পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার নির্মাণ করতে হবে।
Leave a Reply