‘নেপথ্যে ইউপি মেম্বারের পরকীয়া-লেন-দেন’
চরফ্যাশন(ভোলা)প্রতিনিধিঃ
নিখোঁজের একমাসেও স্বামী পরিত্যক্ত মিনারা বেগম(৩৫)’র সন্ধান দিতে পারেনি শশীভূষণ থানা পুলিশ । মধ্যবয়সী নারীর ‘রহস্যজনক’ নিখোঁজের পেছনে পরকীয়া প্রেমিকের লাখ লাখ টাকার গোপন লেন-দেনের বিষয় জড়িয়ে আছে বলে স্বজনদের সন্দেহ।
গত ৮ জানুয়ারী সন্ধ্যায় উপজেলার শশীভূষণ থানার দক্ষিণ মঙ্গল গ্রামের পৈত্রিক বাড়ির নিজ বসতঘর থেকে ওই নারী একটি ফোনকল পেয়ে বের হয়ে যান। তারপর থেকে ওই নারী রহস্যজনক নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় প্রথমে গত ১১জানুয়ারী শশীভূষণ থানায় একটি সাধারন ডায়েরী, পরে ২৪ জানুয়ারী ভোলা জেলা পুূলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। থানা পুলিশের পাশাপাশি পুূলিশ সুপারের নির্দেশে ভোলার ডিবির সাইবার ক্রাইম ইউনিট অভিযোগটি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে। নিখোঁজের একমাসেও নারীর কোন সন্ধান না পাওয়ায় নারীর জীবন নিয়ে সংশয়ে আছেন স্বজনরা ।
ভিক্টিম নারীর পারিবারিক সূত্র জানায়, ১৭/১৮ বছর আগে প্রতিবেশী যুবক কাঞ্চনের সাথে মিনারার বিয়ে হয়। বিয়ের দুই বছরের মধ্যেই একমাত্র মেয়ে সন্তানের জম্মের পর পরই স্বামীর সাথে তার বিয়ে বিচ্ছেদ হয়। একমাত্র সন্তানটি স্বামীর হেফাজতে চলে যাওয়ায় মিনারা দক্ষিণ মঙ্গল গ্রামের বাবার বাড়িতে পৃথক ঘর করে একাই বসবাস করেন। প্রায় ১৫ বছর আগে বাবার হেফাজতে থাকাকালে মেয়ে সন্তানটিও মারা যায়। সে থেকে মিনারা আর দ্বিতীয় বিয়ে করেনি।
গত ৮ জানুয়ারী সন্ধ্যায় হঠাৎ মিনারা বেগম ঘর থেকে বের হয়ে যান। ভাই জাফরের স্ত্রী নাছিমা বেগম সন্ধ্যায় ঘর থেকে বাহিরে যাওয়ার সময় কারণ জানতে চাইলে মিনারা জানান, জলিল মেম্বার তাকে ডেকেছেন। তার সাথে দেখা করতে হবে। সেই যাওয়ার পর থেকেই মিনারা আর ঘরে ফেরেনি।
নাছিমা বেগম জানান, স্থানীয় মেম্বার ( ৮নং ওয়ার্ড,চর কলমী ইউনিয়ন) জলিলের সাথে মিনারা বেগমের দীর্ঘদিনের গোপন সম্পর্ক ছিল। যা তিনি সহ পরিবার ও পাড়া প্রতিবেশীরাও কমবেশী অবগত ছিলেন। কিন্ত প্রেমিক মেম্বারের ফোন পেয়ে তার সাথে দেখা করতে যাওয়ার কথা বলে সে (মিনারা) আর না ফেরায় এখন বিষয়টি বেশী করে আলোচনায় আসছে বলে জানান ভাবি নাছিমা।
নাছিমা বেগম আরো জানান, সময় গড়িয়ে অনেক রাত হয়। মিনারা আর ঘরে ফেরেনি। ফলে খোঁজা-খুজি শুরু হয়। কোন সন্ধান না পেয়ে আমরা মিনারার ঘরে যাই। মিনারার ঘরের বিছানায় মিনারা ও জলিল মেম্বারের জাতীয় পরিচয়পত্র , একটি মেমোরিকার্ড এবং ৫০০টাকার একটি নোাট পাওয়া যায়। ওই মেমোরি কার্ডে মিনারা ও জলিলের রেকর্ডকৃত একাধিক ফোনালাপের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। যেখানে দু’জনের গোপন সম্পর্ক, একাধিক বার গর্ভধারণ ও গর্ভের সন্তান অপসারণ এবং ৮ লাখ টাকা লেন-দেনের মতো বিষয় প্রকাশ্যে আসে। এসব কারণে মিনারা বেগমের স্বজনদের সন্দেহ মেম্বার জলিল ৮লাখ টাকা এবং অবৈধ সম্পর্কের দায় মুছে ফেলতে মিনারাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ গুম করেছে।
মিনারা বেগমের ভাই জাফর জানান, মেম্বার জলিল খুব প্রভাবশালী। তারপরও প্রথম ক’দিন বোনকে ফেরৎ দেয়ার জন্য আমরা মেম্বার জলিলসহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের কাছে দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি । কিন্ত কোন ফল না পেয়ে গত ১১ জানুয়ারী স্থানীয় শশীভূষণ থানায় সাধারন ডায়েরী করি। থানা পুলিশকে সব রকম তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছি। কিন্ত থানা পুলিশ আমাদের হতাশ করেছেন। পুলিশ মামলা নিতেও অনিহা করেছে। ফলে গত ২৪ জানুয়ারী আমরা ভোলা জেলা পুলিশ সুুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি। পুলিশ সুপার বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটকে নির্দেশ দিয়েছেন।
সাইবার ক্রাইম ইউনিটের উপ-পরিদর্শক মো. কামাল হোসেন জানান, পুলিশ সুপারের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে গত ১ ফেব্রুয়ারী তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেন। কিন্ত ঘটনাস্থল থেকে ভোলায় কর্মস্থলে ফেরার পথে সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হয়ে বর্তমানে তিনি ঢাকায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। দূর্ঘটনার কবলে পড়ায় তদন্ত কাজ থমকে আছে।
অপরদিকে শশীভূষণ থানায় সাধারন ডায়েরীর তদন্তের বিষয়ে অফিসার ইন চার্জ মো. মিজানুর রহমান পাটওয়ারী জানান, স্থানীয় মেম্বার আবদুল জলিলের সাথে মিনারা বেগমের দীর্ঘদিনের গোপন সম্পর্ক ছিল। তবে ঠিক কি কারণে মিনারা বেগম নিখোঁজ তা প্রযুক্তিগত তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে দেখা হচ্ছে।
অবশ্য মেম্বার আবদুল জলিল ভিক্টিম মিনারা বেগমের সাথে গোপন সম্পর্ক কিংবা আর্থিক লেন-দেনের সত্যতা অস্বীকার করে বলেন, দুই দফায় একই ওয়ার্ডের নির্বাচিত মেম্বার হিসেবে এলাকার মানুষ তার সাথে ফোনে কথাবার্তা বলেন। ভিক্টিম মিনারার সাথেও তার ফোনে কথাবার্তা হতেই পারে। এর চেয়ে বেশী আর কিছুই সত্য নয়।
Leave a Reply