ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া ঢোলারহাট ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য সুজন আলী(২৮) বিরুদ্ধে নারী কেলেংকারী সহ নানা অভিযোগ উঠেছে। নারী কেলেংকারী সুজনের নানা অপকর্মে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসি।গত ১৭-ফেব্রুয়ারী শুক্রবার দিবাগত রাতে ৪,৫,৬, নং ওয়ার্ডের স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্য নির্মলা মিনা টপ্য বাড়িতে সুজনের সাথে স্থানীয় মাহাবুব আলমের সাথে মারা মারির ঘটনা ঘটে।
স্থায়ী প্রতিবেশিরা তাদের মারা মারির ঘটনা জানতে চাইলে মাহাবুব জানান ইউপি সদস্য সুজন মহিলা ইউপি সদস্য নির্মলা মিনা টপ্য বাড়িতে শরীরের সমস্ত কাপড় খুলে শর্ট পেন্ট পরে শুয়ে ছিল আমি তা ভিডিও ধারণ করিতে ছিলাম। সুজন আমাকে দেখে ফেলায় সে আমার উপর হামলা করে। সুজনের হামলা ও হুমকিতে মাহবুব আলম মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।
মহিলা ইউপি সদস্য নির্মলা মিনা টপ্যর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার শোবার ঘরে যে সুজন ছিল সেটা আমি দেখিনি এবং জানিনা। আমি আমার রোগীর ঘরের চেম্বারে ছিলাম। পরে তাদের মারামারিতে আমার মেয়ের ডাকে আমি বাইরে বের হই। আমাকে দেখে তারা দু’জনই চলে যায়। ইউপি সদস্য সুজন তার বাসায় শর্ট পেন্ট পরে শুয়ে থাকার কথা জানতে চাইলে মিনা আর কোন মন্তব্য করেন নি। ট্রপলা রানী মিনার স্কুল পড়ুয়া মেয়ে, সংবাদ মাধ্যমকে জানান সুজন আমাদের বাসায় প্রায় সময় আসে এবং বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে। মাঝে মাঝে সে রাস্তাঘাটে আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং জোর পূর্বক আমার হাত ধরে। আজ ঘটনার পর সে আমার আম্মা এবং আমাকে কল দিয়ে বলেছে আমরা যদি কারো সামনে মুখ খুলি বা সত্য কথা বলি তবে সে আমাকে রেপ করবে বলে হুমকি প্রদান করে ।
ভিডিও ধারণ কারী মাহাবুব আলমের কাছে জানতে চাইলে মাহাবুব বলেন, সুজন মেম্বার আমাকে মারপিট করছে এ ব্যপারে আমি চেয়ারম্যান কে অবগত করছি। গোপন ভিডিও বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভিডিও আমার কাছে আমি যদি কিছু না বলি তাহলে আপনারা কিছুই করতে পারবেন না। স্থানীয় জনগণ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যদি কিছুই হয়নি তাহলে রাতের আঁধারে সুজন মেম্বার ও মাহাবুব কেন মহিলা সদস্যের বাড়িতে গেল এবং কিসের ভিডিওর কথা নিয়ে মারপিট করছে। লম্পট ইউপি সদস্য, মাহাবুব এবং মহিলা সদস্যকে নিয়ে পুরো ইউনিয়নে চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগীরা বলেন, সুজন মেম্বার কয়েক মাস আগে আমার মোবাইলে ফোন করে বিভিন্ন অনৈতিক সম্পর্কে কথা বলে এতে করে আমি রাজি না হলে আমাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি প্রদান করেন। আবার কিছু দিন আগে আমার কাছে এসে বলে তোমার যদি ভিজিডি কার্ড দরকার হয় তাহলে রাতে একাই আমার বাড়িতে আসিও। এভাবে এলাকার একাধিক অসহায় মহিলা সুজন মেম্বারের নির্যাতনের শিকার হয়েছে। সুজন ২১নং ঢোলারহাট ইউনিয়নের ইউপি সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ক্ষমতার দাপট দিয়ে এলাকার বিবাহিত থেকে শুরু স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থীদেরও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে কু প্রস্তাব সহ শ্লীলতাহানি করে আসছে। তার এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই বিভিন্ন হুমকি ও বাধাগ্রস্তর মুখে পরতে হয় প্রতিবাদকারীকে। অভিযুক্ত ইউপি সদস্য সুজন আলীর সাথে সরাসরি ও মোবাইল যোগে একাধিকবার যোগাযোগ করলে তাকে পাওয়া যায় নি।
একই ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক ইউপি সদস্য নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক জানান সুজন মেম্বার নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে সন্ত্রাসী কায়দায় বেশ কয়েক জন ইউপি সদস্যকেও মারপিট করছে তার বিচার হওয়া দরকার বলে মন্তব্য করেন।
এ বিষয় ঢোলারহাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অখিল চন্দ্র রায় বলেন,বিষয় টা আমি শুনেছি একদল এ বিষয় নিয়ে বসতে চাইছে কিন্তু পরর্বতীতে কেউ আমার কাছে আসেনি এবং সুজন মেম্বার এর সাথে যোগাযোগ করতে চেষ্টা করেও যোগাযোগ করতে পারি নি।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু তাহের মোঃ সামসুজ্জামান বলেন এ বিষয় এখনো কেউ আমার কাছে অভিযোগ করেনি অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply