নিজস্ব প্রতিবেদক
‘মামা ঈদের বকশিশ, টাকা দিলে দেন। না দিলে নেমে যান’- ঠিক এভাবেই রাজধানীর ‘এয়ারপোর্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউ’ পরিবহনের হেলপার মানিক মিয়া একজন যাত্রীর কাছ থেকে ভাড়া আদায় করলেন। তিনি নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ‘ঈদ বকশিশ’ নামে দ্বিগুন ভাড়া আদায় করলেন। ভুক্তভোগী অসহায় হয়ে ভাড়া দিয়ে দিলেন হেলপারের হাতে। ঈদের ছুটিতে ঢাকার রাস্তায় প্রায় প্রতিটি বাসে এমন অভিযোগ উঠছে। ঐ যাত্রীর মতো উপায় না পেয়ে অনেকেই বাড়তি ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে আসা-যাওয়া করছেন।
রোববার ঈদের দ্বিতীয় দিন রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকায় সরেজমিন এমন চিত্র দেখা গেলো। রাজধানীর ফার্মগেট, গাবতলী ও মিরপুরের, শাহাবাগ, মালিবাগ বিভিন্ন রুট ঘুরে রাজধানীতে অন্যান্য দিনের চেয়ে আজ বাসের সংখ্যা একটু কম। কিন্তু এ বাসগুলোতে যাত্রী উঠলে গুনতে হচ্ছে দ্বিগুন ভাড়া।
এয়ারপোর্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউ বাসে অবস্থান করে দেখা গেলো একটি চিত্র। ফার্মগেট থেকে কাকলী মোড়ের রুট অনুয়ায়ী (সৈনিক ক্লাব) দূরত্ব ৬.৩ কিলোমিটার। সর্বশেষ বিআরটিসি ভাড়া নির্ধারণ করে কিলোমিটার প্রতি ২.৪৩ টাকা। সে অনুযায়ী এই রুটে ভাড়া দাড়ায় ১৫ টাকা। কিন্তু ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ২৫ টাকা! শুধু এ বাসেই নয়, রাজধানীর অন্যান্য বাসেও একই চিত্র।
ফার্মগেট থেকে গাবতলী রুটে বাস চলাচল করে লাব্বাইক পরিবহন। এ রুটের ভাড়া ১৫ টাকা। কিন্তু এখানে নেয়া হচ্ছে ২৫ টাকা! লাব্বাইক পরিবহনের একটি বাসচালকের সহকারী আবু তাহের। তিনি বলেন, ‘ঈদের আজ দ্বিতীয় দিন। সবার কাছ থেকেই পাঁচ টাকা বা দশ বেশি নিচ্ছি। ঈদের কারণে ঢাকায় আছি। কাল থেকে আগের ভাড়া নেবো। তাই একটু বেশি নেয়া।’
এসব এলাকায় বাড়তি ভাড়া নিয়ে অনেক যাত্রীর সঙ্গে বাস স্টাফদের বাক-বিতণ্ডার ঘটনাও ঘটেছে। তারপরও বাড়তি ভাড়া ছাড়েনি বাসের কন্ডাক্টররা।
মিরপুর ১ নম্বর থেকে চিড়িয়াখানা পর্যন্ত এই রুটে চলাচল করে রাজধানী পরিবহন। এ পরিবাহনের একটি বাসে ওঠেন সাদিকুল ইসলাম নামে এক যাত্রী। তিনি বলেন, ‘কল্যাণপুর থেকে মিরপুর ১ নম্বর পর্যন্ত ভাড়া নিয়েছে ১৫ টাকা। আবার মিরপুর ১ নম্বর থেকে চিড়িয়াখানা পর্যন্ত ভাড়া নিয়েছে ২০ টাকা। টাকা কিন্তু আমার লাগলো ৩৫ টাকা। অথচ সরকারের বেঁধে দেওয়া ভাড়া ১০ টাকা নেয়ার কথা।’
শুধু লোকাল বাসই নয়, বাড়তি ভাড়া আদায়ের তালিকা থেকে বাদ যায়নি দূরপাল্লার বাসগুলোও। অথচ কয়েকদিন আগেই ঈদে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত নেয়া যাবে না বলে জানিয়েছিল ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘শ্রমিকদের বেকার ভাতা বা ঈদ বকশিশের নামে গাড়ি থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা যাবে না। তাছাড়া ফিটনেসবিহীন কোনো গাড়ি ঢাকার বাইরে রিজার্ভেও পাঠানো যাবে না।’
অথচ সংগঠনের এ নির্দেশনা খাতা-কলমেই থেকে গেছে। তেমন কেউই এটি মানেননি।
Leave a Reply