লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি :
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে সরকারি খাস জায়গা দখলমুক্ত করে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গড়ে তোলা হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন ‘মায়াবতী’ শিশুপার্ক। পৌরসভা সংলগ্ন চরপাতা ইউনিয়নের শিংয়ের পুল এলাকায় রায়পুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের খাল পাড়ে পাড়ে প্রায় ৩ একর জমির ওপর শিশুপার্কটি তৈরি করছে উপজেলা প্রশাসন। এতে খুশি স্থানীয় জনসাধারণ ও শিশু-কিশোররা।
জানা গেছে, চরপাতা ইউনিয়নের চরপাতা গ্রামের প্রায় সাড়ে ৫ একর সরকারি জায়গা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখলপূর্বক ভোগ করে আসছিলেন স্থানীয়রা। উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনজন দাশের নির্দেশে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসেল ইকবাল ওই জায়গা অবৈধ দখলমুক্ত করেন।
পরে উপজেলা প্রশাসন সেখানে শিশুদের জন্য একটি পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। রায়পুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে নির্মাণাধীন এই পার্কের নাম রাখা হয়েছে ‘মায়াবতী’ উপজেলা প্রশাসন শিশুপার্ক। চারপাশে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে শিশুদের জন্য বিভিন্ন খেলার সামগ্রী স্থাপন করা হবে। বর্তমানে পার্কটিতে শিশুদের দোলনাসহ বসার জন্য অনেকগুলো নান্দনিক বেঞ্চ স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে পার্কের ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে নির্মাণকাজ।
স্থানীয় শরিফ হোসেন, ফকরুল আলম, কাউছারসহ ১০-১২ জন বাসিন্দা জানান, রায়পুরে শিশুদের বিনোদনের জন্য কোনো ব্যবস্থা না থাকায় শিশুরা অনেকটা ঘরবন্দি ছিল। এই শিশুপার্কটি নির্মাণ হলে শিশুদের বিনোদনের ব্যবস্থা হবে। পার্কে গেলে ক্লান্তি দূর হবে। মনটা আনন্দে ভরে ওঠে। বিকেলে বাচ্চাদের নিয়ে খেলাধুলা করা যাবে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রশিদ মানুস বলেন, রায়পুরে শিশু-কিশোরদের বিনোদনের কোনো সু-ব্যবস্থা নেই। দীর্ঘদিন পরে হলে ও আমাদের ইউনিয়নে একটি শিশুপার্ক নির্মাণ হচ্ছে জেনে আনন্দিত। পার্কটি দ্রুত নির্মাণের আনন্দে মাঝে মধ্যে আমি নিজেই গিয়ে পার্কের কিছু কাজে সহযোগিতা করি।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসেল ইকবাল বলেন, রায়পুরে শিশুদের জন্য কোন বিনোদন কেন্দ্রে নেই। দীর্ঘ বছর জায়গাটি বিভিন্ন ব্যক্তির দখলে ছিল। পরে অভিযান চালিয়ে জায়গাটি উদ্ধার করে পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়াও দ্রুত সময়ে এই শিশু পার্কের কাজ শেষ হবে। আর খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিনোদনের জন্য উন্মুক্ত হবে এই দৃষ্টিনন্দন শিশুপার্ক।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনজন দাশ বলেন, আপাতত কিছু খেলার সামগ্রী বসানো হচ্ছে। এখানে আরো খেলার সামগ্রী বসানো হবে। প্রাথমিকভাবে শিশুদের চড়ার জন্য ৮টি ছোট বড় রাইড স্থাপন করা হবে এ পার্কে। ফলে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়ক হবে। দর্শনার্থীদের সুযোগ-সুবিধা আরো বাড়ানোর জন্য পার্কের বাইরে ও ভেতরের কাজ চলছে।
Leave a Reply