ফরিদপুর প্রতিনিধি :
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ১১ বছর বয়সী দুই শিশুকে চুরির অভিযোগে আমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।চালকলের উত্তপ্ত চাতালে ওই দুই শিশুকে শুইয়ে পায়ে লোহার শিকল বেঁধে এই নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক মেম্বারের ভাইয়ের বিরুদ্ধে।এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৮জুন) বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল ওহাব বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছিল । কিন্তু শিশুদের অভিবাবকদের কোন অভিযোগ না থাকায় মামলা হয়নি।
জানা গেছে, উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের চাপলডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা ৮ নং ওয়ার্ড মেম্বার নাজমুল শেখের বড় ভাই নজরুল শেখের একটি নলকূপের হাতল সম্প্রতি চুরি হয়। হাতলটি ওই গ্রামের মিন্টু শেখের ছেলে সুমন (১১) এবং মোক্তারপুর গ্রামের কৃষক আলীবার শেখের ছেলে সৌরভ (১১) চুরি করে বিক্রি করে বলে অভিযোগ উঠে।
হাতল চুরির ওই ঘটনায় নজরুল শেখ (৪০) এবং তার সহযোগী একই গ্রামের আইউব খন্দকারের ছেলে হাসান (৩৫) মঙ্গলবার দুপুরে সুমন ও সৌরভকে নির্যাতন করেন । তারা ওয়ার্ড মেম্বার নাজমুল শেখের চাপলডাঙ্গাস্থ চালকলের চাতালে তীব্র রোদের মধ্যে শিশু দুটিকে কয়েক ঘন্টা ওপর করে শুইয়ে পায়ে লোহার শিকল বেঁধে কাঠের বাটাম ও বাঁশ দিয়ে পিটায়। পায়ে লোহার শিকল বেঁধে পেটানোর এ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়।
এদিকে নির্যাতনের বিষয়টি বোয়ালমারী থানা পুলিশ জানতে পেরে নির্যাতনের মূল হোতা নজরুল শেখ ও হাসানকে আটক করে ওই দিনই থানায় নিয়ে আসে। দুই দিন থানায় আটক রাখার পর নির্যাতনকারী শিশুর অভিভাবকদের কোন অভিযোগ না থাকার অজুহাতে বৃহস্পতিবার ধর্তব্য অপরাধ সংঘটনের দায়ে আটককৃত দুই জনকে ফরিদপুর বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে সৌরভের বাবা আলীবার শেখ আক্ষেপ করে বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, তার কোন অভিযোগ নেই। নজরুল শেখ তার শাস্তি পেয়ে গেছেন। তার খামারের গরুগুলো দুইদিন ধরে না খেয়ে আছে, নিজে মশার কামড় খাচ্ছে।
চাতালের গরম মেঝের উপর শুইয়ে রাখায় এবং পিটানোয় জ্বর হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সৌরভের দাদি জরিনা বেগম। তিনি জানান, নজরুল এবং হাসান দুই জনে মিলে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত সুমন ও সৌরভকে চড় থাপ্পড় মারেন, ফাঁড়া বাঁশ গলায় চেপে ধরেন এবং মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করেন।
নির্যাতনের শিকার সুমনের দাদা সিরাজুল শেখ জানান, মেম্বারের ভাই প্রভাবশালী। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে কিছু করা যাবে না। তাই অভিযোগ দেয়নি।
জানতে চাইলে বোয়ালমারী থানার অফিসার ইন চার্জ মোহাম্মদ আব্দুল ওহাব বলেন, ‘ঘটনার পরেই দুইজনকে আটক করে থানায় আনা হয়েছিল। শিশুদের অভিভাবকদের কোন অভিযোগ না থাকায় ধর্তব্য অপরাধ সংঘটনের দায়ে আটককৃত দুই জনকে বৃহস্পতিবার ফরিদপুর বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
Leave a Reply