গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন শিশু সন্তান ও শ্যালককে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গতকাল শনিবার রাতে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঁচজনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। রোববার (১০ মে) ভোরে স্বজনরা মরদেহগুলো নিয়ে গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন।
নিহতরা হলেন- শারমিন (৩৫), তার তিন সন্তান- মিম (১৬), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং স্ত্রী শারমিনের ভাই রসুল (২২)।
গত শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত শারমিনের স্বামী ফোরকান মিয়া বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, পারিবারিক কলহের জেরে ফোরকান একাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনায় গাজীপুর জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়ার নির্দেশে উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সাধারণত ছুটির দিনে ময়নাতদন্ত বন্ধ থাকলেও লাশের অবস্থা বিবেচনায় বিশেষ ব্যবস্থায় দ্রুত ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মরদেহগুলো বাড়ি পৌঁছানোর জন্য দুটি ফ্রিজিং ভ্যানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
গাজীপুর পুলিশ সুপার মো. শরীফ উদ্দীন জানিয়েছেন, এই ঘটনায় ইতোমধ্যেই দুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অভিযুক্ত ফোরকান মিয়াকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, একসঙ্গে পাঁচজনকে হত্যার পেছনে কোনো নেশাজাতীয় দ্রব্য বা ঘুমের ওষুধ ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে নিহত শারমিনের বাবা শাহদাত মোল্লা বাদী হয়ে কাপাসিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ফোরকান মিয়াকে প্রধান আসামি এবং আরও তিন-চারজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুর আলম মামলা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর লাশের পাশে রহস্যময় কিছু লিখিত চিরকুট পাওয়া গেছে বলেও গুঞ্জন উঠেছে, যা নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন এই ঘটনাকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক উল্লেখ করে দ্রুত দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
Leave a Reply