নিজস্ব প্রতিবেদক
ফাইল ছবি
সবজি, আদা ও কাঁচা মরিচের দাম কিছুটা কমেছে। এসব নিত্যপণ্যের সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে বলে বিক্রেতারা জানান। সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন সবজি কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা ও আদা কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে। তবে মাছ আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে।
বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১০ টাকা কমে ১৭৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাড্ডা, রামপুরা, জোয়ারসাহারাসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে মাছের সরবরাহ বাড়লেও এখনো চড়া দামে মাছ বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। চাষের বড় তেলাপিয়া প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, মাঝারি ও ছোট তেলাপিয়া প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় পাঙ্গাশ প্রতি কেজি ২২০ থেকে ২৪০ টাকা ও ছোটগুলো প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চাষের ছোট রুই মাছ প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ২৮০, এক কেজি ওজনের রুই ৩২০ থেকে ৩৪০, দুই কেজি ওজনের রুই ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় সাইজের কাতল মাছ কেজি ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শিং মাছের কেজি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, টেংরা মাছ ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা, মাঝারি চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
জোয়ারসাহারা বাজারের মাছ ব্যবসায়ী মো. রুবেল হোসেন যুগ-যুগান্তরকে বলেন, ‘মাছের সরবরাহ আগের তুলনায় কিছুটা বাড়লেও দাম কমেনি।
পাইকারি বাজারে দাম না কমলে খুচরায় কমবে না। আজও (গতকাল) বাড়তি দামেই মাছ কিনতে হয়েছে।’
একই বাজারে মাছ কিনতে আসা আব্দুল্লাহ আল-মামুনের সঙ্গে কথা হয়। বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের এই কর্মী যুগ-যুগান্তরকে বলেন, ‘ঈদের পর থেকে মাছ বাজার চড়া। আগে যে মাছ ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি ছিল, এখন সেটি ৩৫০ টাকা।
এতে স্বল্প আয়ের মানুষ খুব বিপদে পড়ে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে এর নিয়ন্ত্রণ দরকার।’
বাজারে দুই সপ্তাহ ধরে মুরগির দাম কমেছে। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা ও সোনালি মুরগি ২৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বাংলাদেশ চিকেন ব্রয়লার হাউসের ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন যুগ-যুগান্তরকে বলেন, ‘আগের তুলনায় মুরগি এখন অনেকটাই কম দামে বিক্রি হচ্ছে। খুচরায় ব্রয়লার মুরগি ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।’
খুচরা বাজারে ফার্মের মুরগির ডিম প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায়।
সবজির সরবরাহ বেড়ে দাম কমেছে
রাজধানীর বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়ায় সপ্তাহের ব্যবধানে বেশির ভাগ সবজির দাম কিছুটা কমেছে। বেগুন ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ২০০ থেকে ২৪০ টাকা, পেঁপে ৫০ টাকা, কাঁকরোল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কচুমুখি ৮০ থেকে ৯০ টাকা, করলা ৯০ থেকে ১০০ টাকা, পটোল ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চালকুমড়া প্রতিটি ৪০ থেকে ৫০ টাকা ও লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকা। বাজারে দেশি টমেটোর সরবরাহ নেই। আমদানি করা টমেটো প্রতি কেজি ২২০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলু প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা।
বাজারে দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৭৫ টাকা, আমদানি করা পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। খোলা চিনি প্রতি কেজি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা।
রাজধানীর রামপুরা কাঁচাবাজারের সবজি ব্যবসায়ী মো. জসিম উদ্দিন যুগ-যুগান্তরকে বলেন, ‘কারওয়ান বাজারে আগের তুলনায় এখন সবজির সরবরাহ বেড়েছে। তাই বেশ কিছু সবজির দাম কমেছে। গত সপ্তাহে কোনো সবজিই ৬০ টাকা কেজির নিচে ছিল না। আজ (গতকাল) অনেক সবজি ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছি।’
হিলিতে আদার দাম কেজিতে ১০০ টাকা কমেছে
বাজারে এখন কেরালা জাতের দেশি ও আমদানি করা আদা বেশি বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কমে কেরালা জাতের আদা বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়, যা এক মাস আগেও ছিল ৩০০ টাকার ওপরে।
এক সপ্তাহের ব্যবধানে দিনাজপুরের হিলিতে কেজিপ্রতি ১০০ টাকা কমেছে আদার দাম। বর্তমানে প্রতি কেজি ভারতীয় আদা ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ২৫০ টাকায়। গতকাল দুপুরে হিলি বাজার ঘুরে এ তথ্য পাওয়া যায়। তবে ভারত থেকে আমদানি বাড়ায় ও ক্রেতার সংকট থাকায় দাম কমতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
হিলি বাজারের আদা বিক্রেতা আবু তাহের বলেন, ভারত থেকে আদা আমদানি বেড়েছে। তবে বাজারে আদার ক্রেতা কমেছে। বর্তমানে এক বস্তা আদা বিক্রি করা কঠিন। এখন প্রতি কেজি আদা ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কম দামে কিনে কম দামে বিক্রি করছি।
হিলি কাস্টমসের তথ্য মতে, চলতি মাসে এই স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় দুটি ট্রাকে ৩২ মেট্রিক টন আদা আমদানি হয়েছে। [প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন হিলি প্রতিনিধি]
Leave a Reply