নিজস্বপ্রতিবেদক:
৫ ফেব্রুয়ারী জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সারা দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পূর্বের নীতিমালায় গ্রন্থাগারিক ও সহকারী গ্রন্থাগারিক পদে প্রক্রিয়াধীন থাকা নিয়োগ পূর্বের নিয়মে সম্পন্ন করার দাবিতে মানববন্ধনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা।
আজ ৫ ফেব্রুয়ারী, সোমবার সকাল ১০ ঘটিকায় জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সারা দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ, কারিগরি ও মাদরাসায়) সরকারের পূর্ব নীতিমালা অনুযায়ী গ্রন্থাগারিক ও সহকারী গ্রন্থাগারিক পদে আবেদনকৃত চাকুরী প্রত্যাশীদের প্রক্রিয়াধীন থাকা নিয়োগ পূর্বের নিয়মে সম্পন্ন করার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এতে নতুন নীতিমালা জারির আগে গ্রন্থাগারিক ও সহকারী গ্রন্থাগারিক পদে আবেদন করা চাকুরী প্রত্যাশীরা তাদের প্রক্রিয়াধীন থাকা নিয়োগ পূর্বের নিয়মে সম্পন্ন করার জোর দাবি জানান এবং দাবি আদায়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ন্যায়সঙ্গত সুদৃষ্টি কামনা করেন। এ সময় প্রক্রিয়াধীন থাকা নারী চাকুরী প্রত্যাশীগন কান্নায় ভেঙ্গে পরেন।
মানববন্ধনে গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান চাকুরী প্রত্যাশী ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশের সভাপতি খান সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভা ও মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি খান সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, মাওলানা বেলাল হোসেন, মো: আমির হোসেন, মাওলানা আবু ইউসুফ আনসারী, মাওলানা মুজিবুর রহমান ক্বাদরী, মাওলানা রেজাউল করিমসহ আরো অনেকে।
গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান চাকুরী প্রত্যাশী ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশের সভাপতি খান সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রথমে গত ২৮ মার্চ ২০২১ইং, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে গ্রন্থাগারিক ও সহকারী গ্রন্থাগারিক পদ দুটিকে পরিবর্তন করে (গ্রন্থাগার প্রভাষক ও সহকারী শিক্ষক গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান) শিক্ষক পদমর্যাদা দিয়ে এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সুপারিশ করে একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। এর আগে গত ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২১ইং, থেকে মাদরাসা ও কারিগরি বিভাগের তৎকালীন সচিব আমিনুল ইসলাম খান মহোদয়ের মৌখিক নির্দেশনায় দীর্ঘদিনযাবত বন্ধ রেখে গত ১৮ জুলাই ২০২১ ইং, পদ দুটিকে শিক্ষক পদমর্যাদা দিয়ে অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। আমরা সরকারের এই যুগোপযোগী সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। তবে এই পদে চাকুরির জন্য আমরা যাঁরা স্কুল, কলেজ, কারিগরি ও মাদরাসায় পূর্বের নীতিমালা বলবত থাকা অবস্থায় সে অনুযায়ী আবেদন করেছি এবং নিয়োগ দীর্ঘদিন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, তাদের নিয়োগ পরীক্ষা হচ্ছে না। যাঁর কারণে আমাদের মধ্যে অনেকেরই চাকুরির নির্ধারিত বয়সসীমা অতিক্রম হওয়ার পথে। তাই আমাদের দাবি বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী অফিস আদেশ জারির পূর্বে প্রক্রিয়াধীন থাকা নিয়োগ পরীক্ষা পূর্বের নীতিমালা অনুযায়ী সম্পন্ন করতে হবে।
খান সাইফুল ইসলাম জানান, এর আগে এই পদে গত দশ বছর যাবৎ নিয়োগ চলমান ছিলো স্কুল কলেজে, এর পরে মাদরাসা ও কারিগরি বিভাগের ২০১৮ সালের এম.পি.ও নীতিমালা (২৩ নভেম্বর ২০২০ পর্যন্ত সংশোধিত) নীতিমালায় দাখিল এবং আলিম মাদরাসায় একজন করে সহকারী গ্রন্থাগারিক এবং ফাজিল ও কামিল মাদরাসায় একজন করে গ্রন্থাগারিক পদ নতুন করে সৃষ্টি করা হয়েছে।
সংগঠনের সভাপতি খান সাইফুল ইসলাম আরো বলেন, এই দাবিতে আমরা এর আগেও ৭/৮ বার শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন ও সকাল-সন্ধ্যা গণঅবস্থান কর্মসূচি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পালন করেছি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, মাননীয় শিক্ষা উপমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সচিব বরাবর বার বার স্মারকলিপি দিয়েও এর কোনো ন্যায়সঙ্গত সমাধান পাইনি। এর ফলে আমাদের যাদের চাকুরির বয়স প্রায় শেষের দিকে তারা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। অতএব আমাদের সকলের বয়সের কথা বিবেচনা করে মানবিক কারণে আমরা যারা পূর্ব নীতিমালা অনুযায়ী প্রক্রিয়াধীন রয়েছি, তাদেরকে পূর্বের নিয়মে নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার অনুরোধ করছি। এ ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টিতে কামনা করছি।
সকল সাংবাদিক ভাইদের ধন্যবাদ জানিয়ে আজকের আলোচনা সভা ও মানববন্ধন কর্মসূচি সমাপ্তি ঘোষণা করছি। ধন্যবাদ
Leave a Reply