জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
বন্যায় পানিবন্দি লাখ লাখ মানুষ। ছবি: সংগৃহীত
ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালীসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ১৩ জেলা মুখোমুখি হয়েছে ভয়াবহ বন্যার। ভারতের ছেড়ে দেওয়া পানি এবং অতি বৃষ্টিতে ডুবছে লাখ লাখ মানুষ। প্রতিটি ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট এখন পানির নিচে। অনেককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হলেও এখনো অনেক মানুষের খোঁজ মিলছে না। ফলে এসব জেলার বাইরে থাকা স্বজনরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। বেশির ভাগ মানুষজন ওইসব জেলায় সরাসরি যেতে না পারায় তারা ফেসবুকে তাদের উদ্ধার ও বিভিন্নভাবে সহযোগিতার আকুতি জানাচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার রাত থেকে দুঃচিন্তা বেড়েছে স্বজনদের। বিশেষ করে ঢাকায় বসবাসরত ফেনী, কুমিল্লা ও নোয়াখালী জেলার লোকজনের মাঝে। তাদের বেশির ভাগই সেইসব জেলায় যেতেও পারছেন না। তারা মোবাইল ফোনে যোগাযোগ রাখছিলেন। কিন্তু গতকাল বিকেল থেকে অধিকাংশের সাথে সেই যোগাযোগও বন্ধ হয়ে গেছে। এখনো অনেকের নম্বর বন্ধ পাচ্ছেন তারা। ফলে উদ্বেগ বাড়ছে।
ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপের সদস্যরা ফেনী ও কুমিল্লার বিভিন্ন গ্রামে আটকে পড়া স্বজনদের উদ্ধারের পাশাপাশি যারা এখনো বাড়িতে অবস্থান করছেন তাদের খাবার পৌঁছে দেওয়ার আকুতি জানাচ্ছেন।
এসএসসি-২০০৪-০৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি ফেসবুকে গ্রুপে একজন পোস্ট দিয়ে লিখেছেন, ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার বেজুমিয়া নদীরকূল বাঁশপাড়ার আব্দুস সোবহান মাস্টারের বাড়ির আবু তাহের ও তার স্ত্রী নূরের নাহারের সাথে গত বুধবার বিকেলে যোগাযোগ হয়েছে। এরপর থেকে তাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সেই ব্যক্তি পোস্টের নিচে তিনটি নম্বর দিয়ে সেগুলোর মাধ্যমে তাকে তাদের খোঁজ পেলে নিশ্চিত করার অনুরোধ করেন।
ইমরুল চৌধুরী নামে আরেকজন একই গ্রুপে লিখেছেন, ফেনীতে আমাদের সবাই। কোনো আত্মীয়ের খোঁজ পাচ্ছি না। সবার ফোন বন্ধ। ইয়া মালিক দম বন্ধ হয়ে আসছে, রক্ষা করুন। নেক হায়াত দিন সবাইকে।
অনেকে আত্মীয়দের খোঁজ-খবর নেওয়ার পাশাপাশি নিজেরাই নানা তথ্য ফেসবুকে শেয়ার করে সচেতনতা বৃদ্ধি করছেন। কেউ আবার কোন কোন এলাকায় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও ছাত্র জনতার কতসংখ্যক টিম কী করছে, তাদের ফোন নম্বর পর্যন্ত ফেসবুকে দিয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।
ফেসবুকে বিভিন্নজনের এমন আকুতিতে সাড়াও দিচ্ছেন অনেকে। ইতোমধ্যে ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপের সদস্যরা জোটবদ্ধ হয়ে ট্রলার ভাড়া করে ত্রাণ নিয়ে রাতেই রওনা হয়েছেন ফেনী ও কুমিল্লার উদ্দেশে। আবার অনেক গ্রুপ যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
Leave a Reply