নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি
নেত্রকোনার মদনে বিয়ের দাবিতে মামাতো ভাইয়ের বাড়িতে ছয় দিন ধরে অনশন করছেন দুই সন্তানের জননী। বিয়ে না করলে মামাতো ভাইয়ের বাড়িতে আত্মহত্যা করবে বলে জানিয়েছেন অনশনকারী নারী। তবে মামাতো ভাই (প্রেমিক) লোকমান মিয়া তাকে বিয়ে করতে রাজি হলেও তার পরিবার রাজি হচ্ছে না। এ ঘটনায় ওই নারী বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে গতকাল শুক্রবার রাতে মদন থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত লোকমান মিয়া (৩২) উপজেলার মদন সদর ইউনিয়নের বারবুড়ি গ্রামের বাসিন্দা। অনশনকারী নারী কেন্দুয়া উপজেলার বাসিন্দা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অনশনকারী নারী দুই সন্তানের জননী। ওই নারী ৮-৯ বছর আগে ঢাকায় পোশাকশ্রমিকের কাজ করতেন। এ সুবাদে তিনি বরিশালের এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় এবং পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর তাদের সংসারে দুই সন্তানের জন্ম হয়। তবে ওই নারী তার মামাতো ভাই লোকমানের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান।
বিয়ের আশ্বাসে গত এক বছর আগে ওই নারী স্বামী ও সন্তানদের রেখে চলে আসেন এবং তার স্বামীকে ডিভোর্স দেন। বাবার বাড়িতে কিছুদিন থাকার পর ঢাকায় ফের পোশাক কারখানায় চাকরি শুরু করেন। গেল রোজার ঈদের পর বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন লোকমান। তবে বিয়ের কথা বললে তালবাহানা শুরু করেন তিনি। কোন উপায় না পেয়ে ঈদের পরদিন রবিবার থেকে লোকমানের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করে ওই নারী।
পরে প্রেমিক লোকমান বিয়ে করতে রাজি হলেও তার পরিবার রাজি হয়নি। এর ফাঁকে লোকমান তার কর্মস্থল নারায়ণগঞ্জে চলে যান। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী লোকমান ও তার বাবা-মাকে অভিযুক্ত করে মদন থানায় ভুক্তভোগী ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অনশনকারী নারী বলেন, ‘বিয়ের প্রলোভন দিয়ে স্বামীর সংসার থেকে আমাকে ছাড়িয়ে আনেন অভিযুক্ত লোকমান । এক বছর আগে দুটি সন্তানকে রেখে তালাক দিয়ে বাড়িতে চলে আসি। কিছুদিন থাকার পর লোকমানের কথায় আমি ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকুরী করতে থাকি। এবার ঈদের পর বিয়ে করার কথা বলে শারীরিক সম্পর্ক করে। আমার সব শেষ। লোকমান আমাকে বিয়ে না করলে আত্মহত্যা ছাড়া এখন আর আমার কোনো উপায় থাকবে না।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত লোকমান মিয়া মোবাইল ফোনে বলেন, ‘এখন তো আমার আর উপায় নেই। এখন আমি বিয়ে করব (অনশনকারীকে)।’
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসনাত জামান বলেন, ‘বিয়ের দাবিতে অনশন করা দুই সন্তানের জননী এক নারীর অভিযোগ পেয়েছি।’
Leave a Reply