!
মুহ.মিজানুর রহমান বাদল,মানিকগঞ্জ;
নিজ দেশের প্রত্যন্ত পল্লীর সাহিত্য কৃষ্টি কালচারকে জার্মানি ভাষায় প্রকাশ করে আলোড়ন সৃষ্টি করে
ছিলেন। জামার্নের স্যাটালাইট চ্যানেল ও সেখানকার শীর্ষস্থানীয় দৈনিক পত্রিকা গুলোতে হয়েছিলেন
পত্রিকার শিরোনাম। সেই বাংলাদেশী গোলাম খায়ের জামার্ন থেকে দেশে ফিরলেন প্রাণহীন দেহ নিয়ে।
গত সোমবার (১৯ জুন) দুপুরে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ হাইস্কুলের মাঠে জানাজা
শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। এর আগে গত রবিবার রাতে তার লাশ দেশে পরিবারের কাছে
এসে পৌঁছায়। গোলাম খায়ের দীর্ঘদিন লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত থাকার পর গত ১১ জুন সন্ধ্যায়
জামার্নীর ডটমন শহরে মৃত্যু বরণ করেন ।
গোলাম খায়েরের বাড়ী মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের পশ্চিম ভাকুম গ্রাম। তার
পিতার নাম মৃত সাহাবুদ্দিন আহমেদের পুত্র।সে ১ কন্যা সন্তানের জনক।
গোলাম খায়েরের পারিবারিক সূত্রে জানাযায়, সিএ ইন্টারমিডিয়েট কোর্স সম্পন্ন করে ২০০০
সালের আগস্ট মাসে পেন্টা গ্রুপের চেয়ারম্যান সাবেক শিক্ষা উপ-মন্ত্রী গোলাম সারোয়ার মিলনের
সাথে তার কোম্পানীর পরিচালক হিসেবে জামার্নে আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ করেন।
দেশে না ফিরে জার্মানে রয়ে যান এবং গোলাপ ফুলের ব্যবসা শুরু করেন। ভিসার মেয়াদ না থাকায়
জার্মানের পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। কারাভোগ অবস্থায় দক্ষ হয়ে ওঠেন জামার্নীর ভাষা ওপর। জেল
থেকেই বাংলাদেশে থাকা বড় ভাইয়ের কাছে মাতৃভাষায় বৃহৎকারের চিঠি লেখেন। চিঠিটি জেল
কর্তৃপক্ষকে বাংলাদেশে পোষ্ট করার অনুরোধ করা হলে সেখানে তাকে জার্মানি ভাষায় ভাষান্তর করতে বলা হয়।
তিনি সেটাকে জার্মানি ভাষায় প্রকাশ করলে ওই দেশের বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় আর্টিক্যাল আকারে
ফলাও করে ছাপা হয় এবং পরবর্তীতে সেটা বই আকারেও প্রকাশিত হয় । এতে গোলাম খায়ের ওই দেশের
একজন সাহিত্যিক হিসেবে আতœপ্রকাশ পান। ২০০৩ সালে পরিবারের লোকজনের সাথে যোগাযোগ
হয়। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে প্রথম বাংলাদেশে আসেন। এর মধ্যে গোলাম খায়ের এর জার্মানী ভাষায় আরো
২টি বই প্রকাশ পায়। তার জীবনের আতœকাহিনী নিয়ে “ডার রোজভার কেউফার” বইটি আলোড়ন
সৃষ্টি করে। ২০১২ সালে জামার্নীর সাংবাদিকরা বাংলাদেশের ভাকুম গ্রামে এসে গোলাম খায়েরের উপর
প্রামান্যচিত্র তৈরী করেন। যা ওই দেশের বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচারিত হয় এবং তাকে নিয়ে একাধিক
দৈনিক পত্রিকায় ফিচার প্রকাশিত হয়।
গোলাম খায়েরের ছোট ভাই আল-আমিন সাংবাদিকদের জানান, ২০১৪ সালে জামার্নীতে বসবাসরত
সাভার উপজেলার নাসরিন আক্তারকে বিয়ে করেন। তার ঘরে নীলিমা নামের ৭ বছরের ১ কন্যা সন্তান রয়েছে। মা-
মেয়ে জামার্নিতেই বসবাস করছেন। দীর্ঘ প্রবাস জীবনে তেমন কোনো সঞ্চয় না থাকলেও মৃত্যুর ৩
মাস আগে তার গ্রামের নান্দু নামের এক ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীকে ৭০ হাজার টাকা আর্থিক
সহায়তা করেন। তার বৃদ্ধ মা পুত্রের বিয়োগ ব্যথায় পাগল প্রায়। ৯ ভাই বোনের মধ্যে গোলাম খায়ের ছিল ৬
নম্বর। কীর্তিমানের পরিবারসহ এলাকায় বইছে শোকের মাতম। তার জানাজায় সাবেক শিক্ষা উপ-মন্ত্রী
গোলাম সারোয়ার মিলনসহ সর্বস্তরের লোকজন অংশ নেন।
Leave a Reply