নিজস্ব প্রতিবেদক:
আবাসন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন রিহ্যাব। এ সেক্টরটি বহুদিন যাবৎ নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে জর্জরিত। সাধারণ সদস্যের দীর্ঘদীন ধরে এ অভিযোগের তীর সংগঠনটির গুটি কয়েক সরকার বিরোধী বোর্ড সদস্যের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে বর্তমান সহ-সভাপতি সোহেল রানা সাবেক ছাত্রদল নেতা ও বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী অনুসারী। দীর্ঘদিন যাবত বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে অভিযুক্ত ও বিবিধ প্রতারণা মামলার আসামী।
অপর দিকে আরেক সহ-সভাপতি কামাল মাহমুদের ব্যাপারে রয়েছে অন্তহীন অভিযোগ। তার নেই কোন আবাসন ব্যবসা। নাম সর্বস্ব কোম্পানি দিয়ে সে এত বড় পদ দখল করে আছে অদৃশ্য ক্ষমতার বলে। একাধিক বিএনপি নেতার সাথে রয়েছে তার গভীর সখ্য। থানা-আদালতে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলমান। এই দুই সহ-সভাপতি মিলে তাদের একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তুলেছেন। রিহ্যাবের ক্ষমতা কেন্দ্রিক তাদের অনুসারীরাও সবাই সরাসরি সরকার বিরোধী কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, রিহ্যাব পরিচালনা পর্ষদের সরাসরি সরকার পক্ষীয় সদস্যগণ একেবারে কোনঠাসা। যারা কিনা জেলা থানা পর্যায়ে আওয়ামীলীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। তারা বারবার সোহেল-কামাল চক্রের বিরুদ্ধে সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোন সুরাহা পাননি। আরো অভিযোগ রয়েছে বিএনপি’র এ চক্রটি বহিরাগত সন্ত্রাসী দিয়ে সরকার দলীয় পরিচালকদের মারধরের ঘটনা ঘটিয়েছে। বিষয়টি থানায় জিডিসহ টিভিতে প্রচারিত হয়। কিন্তু বিচার হয়নি।
সোহেল ও কামাল রিহ্যাব ফান্ড হতে নগদে কোটি টাকা উঠিয়ে নেন এ সংক্রান্তে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রমাণ স্বরূপ প্রতিবেদনে দাখিল করেন তাও কোন বিচার নাই। এ কারণে তাদেরকে এখন সবাই ভয় পায় আর সাধারণ কোন মেম্বার এখন রিহ্যাবে যায় না।
আরো উল্লেখ্য, সম্প্রতি রিহ্যাব ভবন তৈরির টেন্ডার প্রক্রিয়ায় তারা ৪৫ কোটি টাকার বাড়িয়ে ৮৫ কোটি টাকা দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ করার চেষ্টা করে এবং পরবর্তিতে পরিচালকগণের প্রচেষ্টায় রিহ্যাব ফান্ড এ বড় ধরনের চুরি হতে রক্ষা পায় । সোহেল ও কামালের বিরুদ্ধে বর্তমান বোর্ড মেয়াদের বিভিন্ন ভূয়া খরচ দেখিয়ে রিহ্যাব ফান্ড হতে কোটি কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। যার মধ্যে রাজউকে টিপস/সাংবাধিক টিপস নামে-বেনামে প্রোগ্রাম ও ভুয়া ক্রয় ভাউচার অন্যতম । এ সংক্রান্ত যথেষ্ট প্রমাণাদি রয়েছে মর্মে জানা যায়।
বর্তমান পর্ষদের পরিচালকসহ সাধারণ মেম্বারগণ সর্বত্র রিহ্যাব ফান্ড সুরক্ষার দাবী করে আসছেন। কথিত রয়েছে এ চক্র তাদের নিজস্ব লোকদের দিয়ে অডিটর নিয়োগ পূর্বক তাদের আত্মসাৎ করা অর্থের হিসাব মিলিয়ে রাখছে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি রিহ্যাব নির্বাচন (২০২৩-২০২৫) এর তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। এখানেও গঠনতন্ত্র যথাযথভাবে অনুসরণ না করে সোহেল রানার ঘনিষ্ট বন্ধু পরিচিত এমন ৩ ব্যাক্তিকে ইলেকশন কমিশনার হিসাবে নিয়োগ দিয়েছেন। আর এই নিয়ে বিতর্ক এখন তুঙ্গে।
ধারণা করা হচ্ছে এ নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে সোহেল-কামাল পুনরায় বিনা প্রতিদ্বন্দি¦তায় রিহ্যাবের সহ-সভাপতি হিসাবে ক্ষমতা ধরে রাখার পরিকল্পনা সেরে ফেলেছেন। আর তাদের সহযোগী হিসাবে নতুন করে আরো কিছ জামাত-শিবিরের সদস্য নতুন পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত করা হবে যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর মৃত্যু নিয়ে ফেসবুকে নানা পোষ্ট দেয়া প্রমাণ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় রিহ্যাবকে সত্যিকার অর্থে ব্যবসা বান্ধব সংগঠনের মর্যাদা ফিরিয়ে আনার দাবীতে এ চক্রকে রিহ্যাব হতে বিতাড়িত করা জরুরি বলে অধিকাংশ সদস্যের মতামত।
Leave a Reply