1. nskibria2012@gmail.com : যুগ যুগান্তর : যুগ যুগান্তর kibria
শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২২ অপরাহ্ন

যাচ্ছে আরও এক রণতরি, শিগগিরই কি ইরানে বড় হামলা?

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৮ বার পঠিত

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত এবং সামরিক পদক্ষেপ থমকে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে তৃতীয় বিমানবাহী রণতরি পাঠাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নতুন করে ব্যাপক বিমান হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

আগামী মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্পের এই যুদ্ধ নীতির দ্রুত পরিবর্তনশীল ও জটিল রূপটি এই নতুন সামরিক মোতায়েনের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। শুরুতে মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে এখন তিনি সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরও এই সংঘাত আরও বাড়িয়ে তোলা তাদের জন্য একটি কার্যকর ও খোলা বিকল্প হিসেবেই থাকছে।

মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া এই নতুন মার্কিন বহরে রয়েছে একটি বিশেষ সুবিধাসম্পন্ন উভচর হামলাকারী দল (অ্যামফিবিয়াস অ্যাটাক গ্রুপ), যার আওতায় সাত হাজারের বেশি নৌসেনা এবং দুই হাজার মেরিন সেনা সদস্য রয়েছেন। এই বহরে যুক্ত রয়েছে ‘ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট’ ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ এবং ‘ইউএসএস মেকিন আইল্যান্ড’ অ্যামফিবিয়াস রেডিনেস গ্রুপ, যার সঙ্গে দুটি উভচর অবতরণকারী জাহাজও রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা সংবেদনশীল এই সামরিক অভিযানের বিষয়ে জানিয়েছেন, এই নতুন বাহিনী পৌঁছানোর ফলে আগামী অক্টোবর মাসের শেষ নাগাদ এই অঞ্চলে একযোগে তিনটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি অবস্থান করবে।

মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর সাথে এই নতুন দল যুক্ত হলে সেখানে মার্কিন নৌ ও মেরিন সেনাদের মোট সংখ্যা দাঁড়াবে ২০ হাজারের ওপরে, যা সাম্প্রতিক সময়ের ইতিহাসে অত্যন্ত অস্বাভাবিক এক উচ্চ মাত্রা। এছাড়া এর সাথে থাকবে শত শত যুদ্ধবিমান। এর আগে গত এপ্রিল মাসে ২০০৩ সালের পর প্রথমবারের মতো মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর তিনটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ একসাথে মোতায়েন করা হয়েছিল।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ‘ইউএসএস জর্জ এইচডব্লিউ বুশ’ এবং ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’ নামের দুটি রণতরি তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর সাথে ‘ইউএসএস বক্সার’ অ্যামফিবিয়াস রেডিনেস গ্রুপও দায়িত্বরত রয়েছে। মূলত প্রশান্ত মহাসাগরে মোতায়েন থাকা ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’-কে মধ্যপ্রাচ্যে আনা হয়েছিল ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে, যার ক্রু সদস্যরা টানা ২৬০ দিনেরও বেশি সময় সাগরে কাটানোর পর ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। তবে ‘ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট’ এসে পৌঁছালে ‘জর্জ ওয়াশিংটন’-কে হয়তো আবারও জাপানের উপকূলীয় সাগরে ফিরিয়ে নেওয়া হতে পারে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ‘টাইম’ সাময়িকীকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানে নতুন করে আক্রমণের আ্রম আরও উসকে দিয়েছেন। তিনি বলেন, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে বোমাবর্ষণ জোরদার করা হতে পারে এবং এটি অত্যন্ত সম্ভব। তবে নিজের সুনির্দিষ্ট সামরিক কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমি তো আপনাকে বিস্তারিত বলতে পারি না, কারণ আপনি জানতে চাইছেন ঠিক কোন জায়গায় বোমাবর্ষণ করা হবে।

গত সোমবারে নেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, ইরান থেকে আসা সাম্প্রতিকতম যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর মতে, এক বছর আগে যেসব শর্তে আমি অনুমোদন দিতাম না, আজকেও সেসব শর্তে অনুমোদন দেওয়া সম্ভব নয়।

ইরানের পক্ষ থেকে বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের মূল জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ খুলে দেওয়ার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, সেটিকে উদাহরণ হিসেবে টেনে ট্রাম্প জানান, সামগ্রিক প্রস্তাবটি আসলে যথেষ্ট ভালো ছিল না।

ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা হারানো এই যুদ্ধের কারণে নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির জয়লাভের সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে কি না; এমন প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প প্রথমে বলেন, এমনটা হওয়া অসম্ভব নয়। তবে পরক্ষণেই বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি যোগ করেন, মূলত এটি আমাদের জেতার ক্ষেত্রেই সাহায্য করা উচিত, কারণ এর ফলে ইরানের হাতে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, সারা বিশ্বের শতভাগ মানুষই চায় না যে ইরানের কাছে পারমাণবিক হামলা চালানোর কোনো সক্ষমতা থাকুক। তাঁর মতে, বিষয়ের উপস্থাপন সঠিকভাবে করা হলে তা নির্বাচনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, অন্যথায় তা রাজনৈতিকভাবে ক্ষতির কারণ হতে পারে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..