1. nskibria2012@gmail.com : যুগ যুগান্তর : যুগ যুগান্তর kibria
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:২১ অপরাহ্ন

চলনবিল এলাকায় শীতের আগমনের শুরুতে মধুরস্ক খেজুর রস সংগ্রহের প্রস্তুতি চলছে

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৪ বার পঠিত

মির্জা আব্দুর রব বুলবুল, ঃ- নদী, খাল, বিল এতিনে
গঠিত হয় চলনবিল। বাংলাদেশের ঐতিহাসিক চলনবিল এলাকায় গত কয়েক দিন
যাবৎ হালকা হালকা শীত ও ঘন কুয়াশা অনুভব হচ্ছে, তাই এ এলাকার গাছিয়ারা
শীতের আগমনের শুরুতেই খেজুরের মিস্টি রসালো রস সংগ্রহের প্রস্তুতি শুরু
করেছে । এ এলাকার খেজুর গাছগুলোতে গাছিয়াদের বিচরণ লক্ষ্য যাচ্ছে।
গাছিয়ারা খেজুর গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। খেজুরের রসালো রস
প্রাচীনকাল থেকে গৌরব আর ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে মধুরস্ক হিসেবে সারা
দেশের মানুষের কাছে সু-পরিচিত। তাই এ এলাকার মানুষের মাঝে খেজুর রস
সার্বক্ষণিক দোলা দেয়। পুরো শীতকালীন সময়ের যাবতীয় পিঠা উৎসবের
জনপ্রিয় উপকরণ হচ্ছে খেজুরের রস। শীত যত বেশী পড়বে এ রসের তত চাহিদা ও
মূল্য বৃদ্ধি পাবে। বছরের বেশীর ভাগ সময়ে এ গাছ অযতœ আর অবহেলায় পড়ে থাকে
পক্ষান্তরে শীত আসলেই এ গাছের কদর বৃদ্ধি পায়। খেজুর গাছের রস সুমিস্টি হয়,
রস থেকে পাটারী ও ঝোল গুড় তৈরী হয়। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রতিকেজি-
১৩৫/- থেকে ১৭০/- টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চলনবিল এলাকার নয়টি উপজেলা তাড়াশ,
উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, ফরিদপুর, ভাঙ্গুড়া,চাটমহর, গুরুদাসপুর, সিংড়া ও আত্রাই
উল্লেখযোগ্য প্রতিটি গ্রামে সর্ব নিম্ন ৬০টা থেকে ২০০টা পর্যন্ত
খেজুরের গাছ রয়েছে, যা থেকে রস সংগ্রহ করা যায়। তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়
এ পুরো চলনবিল এলাকায় প্রায় ৬০০০ (ছয়হাজার) পরিবার এ পেশার সাথে সরাসরি
সম্পৃক্ত বলে স্ব স্ব উপজেলার কৃষি অফিসের তথ্যমতে জানা গেছে। পুরো চলনবিল
এলাকায় চলতি মৌসুমে প্রায় ৬৫,০০০ (পঁয়ষট্টি হাজার) এর অধিক খেজুর গাছ
থেকে রস সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে গাছিয়ারা জানান। সরোজমিনে তথ্য
অনুসন্ধানে কথা হয় রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলা থেকে আগত খেজুর রস
সংগ্রহকারী মোঃ আমজাদ হোসেন (৫৫) এর সাথে কথা প্রসঙ্গে তিনি বলে
প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০টি গাছের রস তিনি সংগ্রহ করে থাকেন। বছরের
মৌসুম ভিত্তিক এ পেশায় এ এলাকায় প্রায় ৬,০০০ (ছয়হাজার) পরিবার সরাসরি
উপকার ভোগ করলেও সহযোগী হিসেবে আরোও বেশকিছু পরিবার এ থেকে লাভবান
হন। একটা খেজুর গাছ থেকে প্রতি মৌসুমে গড়ে ১৫-৩০ কেজি গুড় উৎপাদন
করা যায়। বর্তমানে বাজারে প্রতিলিটার রস ৩৫ টাকা থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি
হচ্ছে। এ এলাকায় আগত গাছিয়ারা জানান আর অল্প কিছু দিনের মধ্যেই এ
এলাকায় খেজুরের গুড় তৈরীর মহাৎসব চলবে । খেজুর গাছ জমির ফসলের কোন প্রকার
ক্ষতি সাধন করে না, দেশের বনে জঙ্গলে কোন প্রকার যতœ ছাড়াই এ গাছ বড় হয়ে
থাকে। এ গাছের জন্য কোন বাড়তি খরচ করতে হয় না। এ এলাকার গাছিয়ারা
শুধুমাত্র মৌসুম এলেই গাছের যতœ করে থাকে। খেজুর গাছ থেকে রস, পাটারী
গুড়, ঝোলা গুড় এবং খেজুরের পাতা দিয়ে তৈরী হয় মাদুর এবং গাছের পাতা দরিদ্র
শ্রেণীর মানুষেরা জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করে থাকে বলে তারা জানান।
এলাকাবাসী এ প্রতিবেদককে জানান যে, যদি খেজুর গাছের বাগান
বানিজ্যিকভাবে গড়ে উঠে তাহলে দেশ তথা জাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে নতুন
কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং কিছুটা হলেও বেকার সমস্যার সমাধান হবে
বলে এলাকাবাসী আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ ব্যাপারে চলনবিল এলাকার স্ব-স্ব উপজেলার
কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা তারা আন্তরিকতার বলেন এ কাজের

সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১৫,০০০ (পনের হাজার) পরিবার এ কর্মের সাথে
সম্পৃক্ত রয়েছেন বলে তারা জানান। # ০৫.১১.২০২৬ ইং।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..