আসাদউজ্জামান,
শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, একাডেমিক সাফল্য, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে ধারাবাহিক উৎকর্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার ইউনুছ খান মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজকে ‘অ্যাওয়ার্ড অব এক্সিলেন্স-২০২৬’ প্রদান করা হয়েছে। নভেম্বর মাসের জন্য জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠানটিকে এ সম্মাননা দিয়েছে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর কাছ থেকে সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ তানজীমা সুলতানা পারভীন।
প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সাফল্য, শিক্ষার পরিবেশ, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে ধারাবাহিক অর্জন বিবেচনায় নিয়ে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পাঠ্যক্রমের বাইরেও বিভিন্ন সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা এ অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক একাডেমিক সাফল্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো এইচএসসি পরীক্ষায় শতভাগ পাসের কৃতিত্ব। সর্বশেষ অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৪১ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। শতভাগ পাসের এ সাফল্যের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি মুন্সীগঞ্জ জেলায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে।
সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন উদ্ভাবনী শিক্ষাকার্যক্রম ও অর্জনের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আধুনিক, বিজ্ঞানমনস্ক ও জ্ঞানভিত্তিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পাঠ্যবইয়ের শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমে গুরুত্ব দিতে হবে। এ সময় জেলার অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও এ ধরনের ইতিবাচক ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, একজন সুশিক্ষিত ও সুনাগরিক সন্তান গড়ে তোলাই পিতামাতার আর্থিক সম্পদ ও স্থাবর সম্পত্তির চেয়েও শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ। তাই সন্তানদের প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উভয়কেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
উল্লেখ্য, মুন্সীগঞ্জ জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন এবং ভালো চর্চাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতি মাসে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ‘অ্যাওয়ার্ড অব এক্সিলেন্স’ প্রদান করা হয়। শিক্ষার মান, একাডেমিক ফলাফল, শৃঙ্খলা, উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও ফলাফলমুখী, উদ্ভাবনী ও শিক্ষার্থীবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি জেলার সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এ স্বীকৃতি ইউনুছ খান মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবার জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।