আল-আমিন হোসেনঃ চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার গাংনী ইউনিয়নের সাহেবপুর গ্রামে ভুট্টা চাষ করে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। ‘নসিব-৫৫’ জাতের ভুট্টা বীজ ব্যবহারের কারণে তারা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে যেয়ে দেখা যায়, সাহেবপুর গ্রামের কৃষক রিপন, একই গ্রামের আব্বাস আলী ও ইনামুল হক আসমানখালী এলাকার ‘মুরাদ বীজ ভান্ডার’ থেকে বীজ সংগ্রহ করে মোট প্রায় ৯ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেন। কৃষকদের দাবি, বীজ বিক্রয়ের সময় দোকানদার বিঘা প্রতি প্রায় ৫০ মণ ফলনের প্রতিশ্রুতি দিলেও বর্তমানে ফলন নেমে এসেছে মাত্র ৫ মণে।
ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, যথাসময়ে সার, সেচ ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যা দেওয়ার পরও গাছ স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেলেও অধিকাংশ গাছে মোচা আসেনি। ফলে তাদের উৎপাদনের আশা ভেঙে পড়েছে। প্রতি বিঘায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা ব্যয় করেও কাঙ্ক্ষিত ফলন না পাওয়ায় তারা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
কৃষকদের আরও অভিযোগ, একই বীজ ব্যবহার করে পার্শ্ববর্তী এলাকাতেও অনুরূপ সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাদের ধারণা, বাজারে নিম্নমানের বা ভেজাল বীজ সরবরাহের কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ কৃষকরা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আকতার জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, সম্প্রতি জগন্নাথপুর এলাকায় এক ভুক্তভোগী কৃষকের ক্ষতিপূরণ সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কাছ থেকে আদায় করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ধান, গমসহ সাত ধরনের বীজের মূল্য সরকার নির্ধারণ করলেও ভুট্টার বীজকে এর আওতায় আনার বিষয়টি জেলা পর্যায়ের সভায় আলোচনায় তোলা হবে।
এ নিয়ে জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসার মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ধান ও গমসহ অন্যান্য বীজের দাম সরকার নির্ধারণ করে দিলেও ভুট্টার বীজ নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই। তবে চুয়াডাঙ্গা জেলা ভুট্টা উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বিষয়টি জেলা সভায় আলোচনা করা হবে।।
Leave a Reply