বাণিজ্য ডেস্ক:
ফাইল ছবি
বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ব্রাজিলসহ দক্ষিণ আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের সম্ভাব্যতা যাচাই করার জন্য ব্রাজিলে বাংলাদেশ দূতাবাসকে চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেছেন, এফটিএ চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রস্তুত করতে ব্রাজিলে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাদের উত্তর পাওয়ার পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দক্ষিণ আমেরিকার কয়েকটি দেশ মার্কোসুরের অন্তর্গত। যা ১৯৯১ সালে আসানসিয়ন চুক্তি এবং ১৯৯৪ সালে ওরো প্রেটোর প্রোটোকল অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত একটি বাণিজ্য ও রাজনৈতিক ব্লক। মার্কোসুরের পূর্ণ সদস্য হলো- আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে, উরুগুয়ে এবং ভেনেজুয়েলা। সহযোগী দেশগুলো হলো- বলিভিয়া, চিলি, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, গায়ানা, পেরু এবং সুরিনাম।
সূত্র জানায়, দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এফটিএ শাখা সম্প্রতি ব্রাজিলে বাংলাদেশ দূতাবাসে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে ব্রাজিলের সঙ্গে একটি এফটিএ স্বাক্ষরের বিষয়ে বাণিজ্য আলোচনা শুরু করার জন্য দেশটির সরকারকে অনুরোধ করা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি গত বছর ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মার্কোসুরের মহাসচিব কার্লোস ফ্রাঙ্কাকে একটি চিঠি পাঠিয়ে ছিলেন। গত অক্টোবরে ব্রাজিলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মার্কোসুরের মহাসচিবকে জানিয়ে ছিলেন যে বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের মধ্যে সুবিধাজনক সময়ে একটি এফটিএ আলোচনা শুরু করা যেতে পারে।
বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, ‘দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে ব্রাজিল সরকার এবং দেশটির আমদানিকারকদের অর্থপূর্ণ সহযোগিতার জন্য তাদের সমকক্ষদের সঙ্গে যুক্ত হওয়া উচিত। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরিত হলে ব্রাজিলে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বাড়বে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বাস করে যে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) যদি মার্কোসুরের শীর্ষ সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়, তাহলে সদস্য দেশগুলো তা আন্তরিকভাবে বিবেচনা করবে।’
গত বছর আগস্টে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ব্রাজিলের বাণিজ্যমন্ত্রী ও বৈদেশিক বাণিজ্য উপমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের জন্য ব্রাজিল সফর করেন। তিনি ব্রাজিলে মার্কোসুরের প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি দেশটির তুলা চাষিদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সেসময় ব্রাজিলের তুলা চাষি সমিতির নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশে আরও মানসম্পন্ন তুলা রপ্তানির আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময়, দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম দেশটির সরকারকে বাংলাদেশের পোশাক আমদানিতে শুল্ক কমাতে এবং ঢাকা থেকে তাদের আমদানির পরিমাণ বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করা হয়।
তুলা চাষি অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে এক বৈঠকে বাংলাদেশ ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় একটি গুদাম স্থাপনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে যাতে সহজেই বাংলাদেশে তুলা পাঠানো যায়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এফটিএ শাখার একজন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশের বিপরীতে ব্রাজিল যথেষ্ট বাণিজ্য উদ্বৃত্ত উপভোগ করে। তবে ব্রাজিলে তৈরি পোশাক ও ওষুধসহ বিভিন্ন বাংলাদেশি পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, সেখানে উচ্চ আমদানি শুল্কের কারণে বিপুল পরিমাণে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি আশানুরূপ সম্ভব হচ্ছে না। ফলস্বরূপ, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ব্যবধান বাড়ছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ব্রাজিলে ১৭৬.৯০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। একই সময়ে ব্রাজিল থেকে ১,৫২০.৬০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। অর্থাৎ ব্রাজিলের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি ১৩৪৩.৭০ মিলিয়ন ডলার।
সূত্র জানায়, ব্রাজিলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য পণ্যের চাহিদা রয়েছে। শুল্ক সমস্যার কারণে দেশটিতে বাণিজ্য সম্প্রসারণ সম্ভব হচ্ছে না। এফটিএ স্বাক্ষর হলে ব্রাজিলে বাংলাদেশের পণ্যের চাহিদা বাড়লে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমে আসবে।
Leave a Reply