নিজস্ব প্রতিবেদক
মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিংর বিরূপ প্রভাব পড়ছে টেলিকম খাতে। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সাইট ডাউনের খবর আসছে। ডেটা সেন্টার ও নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পপসমূহও বন্ধের উপক্রম হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন, মোবাইল অপারেটদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (এমটব)। বিষয়টি নীতি নির্ধারকদের জানানো হয়েছে। বলা হচ্ছে, তৃণমূলে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ সাইট ডাউন বা বন্ধ হয়েছে। যার প্রভাবে টেলিযোগাযোগ এবং ইন্টারনেট সেবা প্রদান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স সাহেদ আলম বলেছেন, সব অপারেটরের ক্ষেত্রে প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ টাওয়ারে কোনো বিদ্যুৎ নেই। যতটুকু পারছি আমরা জেনারেটর দিয়ে চালাচ্ছি, যেখানে পারছি না সেখানে নেটওয়ার্ক বন্ধ থাকছে। নেটওয়ার্কটা এখন খুব দুর্বল জায়গায় আছে। যদি এটার সুরহা না হয় এবং এভাবে যদি চার-পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ চলে যায়, তাহলে কোর নেটওয়ার্কগুলো হুমকির মধ্যে পড়ে যাবে।
দেশের চার মোবাইল ফোন অপারেটরের ২৭টি ডেটা সেন্টার আছে। প্রতিটি ডেটা সেন্টারের জন্য সচল রাখার জন্য ব্যবহার হচ্ছে একাধিক জেনারেটর। প্রতিটি জেনারেটরের জন্য প্রতিদিন দরকার পড়ছে সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার লিটার ডিজেল। এর সাথে টাওয়ার সচল রাখতে আরো বাড়তি জ্বালানির প্রয়োজন।
এমটব বলছে, নেটওয়ার্ক সচল রাখার জন্য বর্তমানে প্রতিদিন ১ লাখ লিটারের বেশি জ্বালানির দরকার হচ্ছে। কিন্তু স্থানীয় ফিলিং স্টেশন থেকে চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মিলছে খুবই সামান্য।
অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (এমটব) মহাসচিব লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ জুলফিকার বলেছেন, যথেষ্ট পরিমাণ সহযোগিতা-সহমর্মিতার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন পর্যায়ে গিয়ে এটার একটু ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিপিসি যদি পেট্রোল পাম্প বা ডিপোগুলোকে একটা নির্দেশনা দিয়ে দেয়, নিরবচ্ছিন্ন আমরা যেন উনাদের কাছ থেকে সহযোগিতা পাই।
টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো সচল রাখার জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি এ খাতে জরুরি জ্বালানি সবরাহের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে বিটিআরসি। করণীয় নির্ধারণে আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, ডিপিডিসি, ডেসকো ও মোবাইল অপারেটরদের নিয়ে সভা আহ্বান করেছে বিটিআরসি।
Leave a Reply