নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ২৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফোরকান হোসেন ও তার ভাই মো. আসাদুজ্জামান আসাদের বিরুদ্ধে সরকারি রাস্তা দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ যাচাই-বাছাইয়ে গত ২৮ মার্চ দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. সাইদুজ্জামান ও সহকারী পরিচালক ওমর ফারুকসহ ৮ সদস্যের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযান চালায়।
সরকারি রাস্তা দখল করে ভবন নির্মাণ করা ছাড়াও ফোরকান-আসাদের নামে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কাউন্সিলের ছোট ভাই আসাদ একটি কিশোর গ্যাং গড়ে তুলেছে। তাদের দাপটে দিনদিন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে এলাকা। কাউন্সিলের বড় ভাই সিরাজুল ইসলাম ও ছোট ভাই আসাদ অনেকটা প্রকাশ্যেই চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করে।
খোঁজে নিয়ে জানা গেছে, ২৮নং ওয়ার্ড এলাকায় মাদক, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ভূমি দখলের মতো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মুলহোতা আসাদ। এমনকি শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স থেকেও চাঁদা নেয়া হয়। চাঁদা না দিলে প্রকাশ্যে গাড়ির মালিক ও ড্রাইভারের ওপর হামলা করা হয়। আগারগাঁও এলাকার সব হাসপাতাল এ সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি। বড় বড় সরকারি অফিস এ এলাকায় হওয়ায় চক্রটি টেন্ডার বাণিজ্যও দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। বড় ভাই কাউন্সিলর হওয়ায় ক্ষমতা-প্রভাবে আসাদ এতটা বেপরোয়া যে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না।
জানা গেছে, আবুল ঢালী নামে এক গাড়িচালকের টাকা ছিটিয়ে নিতে চেষ্টা করে আসাদের কিশোর গ্যাং। টাকা দিতে না চাওয়া তার হাতে কব্জি কেটে দেওয়া হয়। ঐ ঘটনায় ২০১৮ সালের ৩ আগস্ট দায়ের করা মামলাটি বিচারাধীন। এমনকি পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও বর্জ্য অপসারণের গাড়ি তালা মেরে জিম্মি করে লাখ টাকা দাবি করেন আসাদ। পরে কৌশলে করে বর্জ্য অপসারণের নিয়ন্ত্রণ নেন। এ নিয়ে ২০২১ সালের ২৮ জুন শেরেবাংলা নগর থানায় জিডি করা হয়।
দুদক জানায়, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফোরকান হোসেন ও তার ভাই মো. আসাদুজ্জামান আসাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সরকারি রাস্তা দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগের বিষয়ে অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানকালে কাউন্সিলর ফোরকান হোসেন ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তবে তার ভাই আসাদুজ্জামান আসাদের বক্তব্য গ্রহণ করেছে দুদক টিম। এছাড়া ঐ জায়গায় নির্মাণাধীন লায়ন বিল্ডার্স এবং আগারগাঁও কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন সড়কের নকশা ও কাগজপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। রেকর্ড পর্যালোচনা করে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
দুদকে আসা অভিযোগের বিষয়ে জানা যায়, রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের কামাল সরণির (৬০ ফুট সড়ক) পশ্চিম আগারগাঁও কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সড়কের প্রায় ৭০০ বর্গফুট বন্ধ করে প্লট তৈরি করা হয়েছে। যে প্লটে ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য ডেভেলপার কোম্পানি সাইনবোর্ডও দিয়েছে। অথচ সড়কটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা।
তারা বলছেন, জামে মসজিদ সড়কটি সোজা কামাল সরণির সঙ্গে যুক্ত ছিল। সড়কটি বাঁক নেয়ার পয়েন্ট থেকে সোজা কামাল সরণিতে যুক্ত হওয়া পর্যন্ত পুরো জায়গাই দখল করেছেন কাউন্সিলর ও তার ভাই। স্থানীয় কাউন্সিলররা আধা কাঠা জমির সঙ্গে রাস্তার জায়গা যুক্ত করে প্লটটি বড় করেন। যে রাস্তাটি দিয়ে মানুষ কামাল সরণিতে যাতায়াত করছে, নকশা অনুযায়ী সেটা ২০ ফুট চওড়া থাকার কথা। ঐ রাস্তারও ১০ ফুট অংশ দখল করে প্লটটি আরো বড় করা হয়েছে। ফলে চলমান রাস্তাটির প্রশস্ততা কমে ১০ ফুট হয়েছে।
দুদকের সহকারী উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) আরিফ সাদেক বলেন, অভিযোগের ব্যাপারে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। কাগজপত্র না দেখে কিছু বলা যাচ্ছে না।
অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, আগারগাঁও এলাকায় আমার কোনো কিশোর গ্যাং নেই। আমি কোনো চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত নই। যারা এসব বলছে, পুরোটাই মিথ্যা।
লিমন, সুজন, রুবেল, মনির আপনার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এরা আমার সঙ্গে থাকে।
দুদকের অভিযোগের বিষয়ে আসাদ বলেন, দুদকের লোকজন আসছিল শুনছি- বাকিটা আমি জানি না। আমার নামে কোনো মামলা বা জিডি হয়নি।
এ বিষয়ে কাউন্সিলর ফোরকান হোসেন বলেন, কোনো খারাপ কাজে আমি জড়িত না। সবসময় এলাকার লোকজনের সেবা করে আসছি। এ এলাকা ছিল মাদকের আখড়া, আমি কাউন্সিলর হয়ে মাদক বন্ধ করেছি। আমার নামে সব অভিযোগ মিথ্যা।
Leave a Reply