মোঃ তাজুদুর রহমান, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বেলাগাও গ্রামের সুমি আক্তার (২৪) নামে এক যুবতীকে কুপিয়ে জখম করেছে মোঃ সায়েল আহমদ ওরফে শাকিল (২২) নামের এক যুবক। শাকিল জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের উত্তর কুচাইরতল গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে।
এদিকে গতকাল শুক্রবার (২৬ আগস্ট) থানায় মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ ভোরে অভিযুক্ত আসামী শাকিল ও তার বোন জামাই লুৎফুর রহমান( ৪৫) কে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এ বিষয়ে পুলিশ, এলাকাবাসী ও নির্যাতিতার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, হামলার শিকার সুমি আক্তারের স্বামী মারা গেলে সে একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ীতে আশ্রয় নেয়। তার বাবা দিনমজুর হওয়ায় সে ভবানীগঞ্জ বাজারের একটি পার্লারে কাজ নেয়। পার্লারে আসা যাওয়ার পথে মােঃ সায়েল আহমদ উরফে শাকিলের কুদৃষ্টি পড়ে সুমির ওপর। সে প্রায়সময় তাকে রাস্তায় পেয়ে কু-প্রস্তাব দিত। এতে কোন ভাবেই সুমি সাড়া না দেওয়ায় তাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধমকি দিতে থাকে। সুযোগ খোঁজতে থাকে সায়েল। সে তার ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য গত ৮ আগস্ট একা পেয়ে সুমির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে মোবাইলটি ফেরত দেওয়ার কথা বলে সুমিকে সায়েলের বাসার সামনে (জুড়ী রেঞ্জ অফিস সংলগ্ন) আসতে বলে। সুমি সেখানে গেলে আগে থেকে উৎ পেতে থাকা সায়েল ও তার বোন জামাই টেনে হেঁচড়ে তাকে বাসার ভেতরে নিয়ে যায়। বাসার ভেতরে নিয়ে দরজা আটকিয়ে তার উপর শারীরিক নির্যাতন চালায়।
এক পর্যায়ে সায়েল ছুরি দিয়ে সুমির শরীরের বিভিন্ন জায়গায় উপর্যোপরি ছুরিকাঘাত করে। এসময় সুমি চিৎকার করলে তাকে উদ্ধারে ভয়ে আশপাশের কেউ এগিয়ে আসে নি। এতে সুমি মারাত্মক আহত হলে সায়েলের বোন রিনা বেগম (২৮) তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মুমূর্ষ অবস্থায় সেখানে ফেলে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে সুমির দিনমজুর বাবা হাসপাতালে ছুটে যান। সুমির অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে সে পিত্রালয়ে ফিরে আসে। সুমির উপর নির্যাতন মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে হার মানিয়েছে। গতরাতে থানায় হাজির হয়ে জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসির কাছে সুমি তাঁর ওপর পৈশাচিক নির্যাতনের ঘটনার বর্ণনা দেন এবং নিজে বাদী হয়ে তিন জনকে আসামি করে তাদের বিরুদ্ধে জুড়ী থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সিরাজুল ইসলাম বলেন, আসামিদের গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, ঘটনার বর্ণনা মেয়েটির কাছে থেকে শুনে তাৎক্ষণিক ভাবে মামলা রুজু করে আসামীদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেই। শুক্রবার (২৬ আগস্ট) ভোরে এ মামলায় দুজনকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
Leave a Reply