মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:-
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১১ নং মোস্তফাপুর ইউনিয়নের লামা জগন্নাথপুর গ্রামের (৮) বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ করেছে হান্নান মিয়া (৫৫) নামের এক বৃদ্ধ।
জানা যায় ধর্ষণকারী হান্নান মিয়া পেশায় একজন টমটম চালক। তার পৈত্রিক নিবাস
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আমতৈল ইউনিয়নের মাসকান্দি (বলরামপুর) গ্রামে।
ধর্ষক হান্নান মিয়া দীর্ঘ ৬ বছর যাবৎ সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের লামা জগন্নাতপুর গ্রামে বসবাস করে আসছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হান্নান মিয়া তার নিজ বাড়ি সদর উপজেলার মাসকান্দী গ্রামে এর আগেও একই ধরণের ঘটনা ঘটায় এবং দুটি শিশুকে শারিরীক নির্যাতন করে।
পরবর্তীতে দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর সে লামা জগন্নাথপুর গ্রামে বসবাস করতে শুরু করে।
ধর্ষণের শিকার শিশুটির মা জানান, গত ৮ই মার্চ (বুধবার) বিকাল ৪ ঘটিকার সময় শিশুটি বাড়ির পাশের মাঠে বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা করছিল।সেখান থেকে নির্যাতিত শিশুসহ আরেকটি মেয়েকে ডেকে নিয়ে যায় হান্নান মিয়া।
তখন নির্যাতিত শিশুকে একটি ঘরে আটক করে ধর্ষণ করে।
ধর্ষণের শিকার শিশু তার মায়ের কাছে কাপর পাল্টানোর কথা বললে তার মা দেখতে পান মেয়ের শরীর থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।তিনি মেয়েকে জিজ্ঞাসা করলে উত্তরে মেয়ে কিছুই বলেনি । প্রচন্ড রক্তক্ষরণ হওয়ার কারণে তিনি সাথে সাথে মেয়েকে নিয়ে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে রওয়ানা হলে রাস্তায় টমটম চালক হান্নানের সাথে দেখা হয় এবং তার গাড়ি করে হাসপাতালে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলে সে তাদেরকে সদর হাসপাতালে না নিয়ে অন্যত্র ডাক্তার দেখাতে জোর করে।
এতে শিশুর মা রাজি না হলে শেষে চালক হান্নান মিয়া তাদেরকে নিয়ে সদর হাসপাতালে যেতে বাধ্য হয়।
সদর হাসপাতালে গিয়ে হান্নান মিয়া গাড়ি ভাড়া না নিয়ে উল্টো নির্যাতিত শিশুর মায়ের কাছে কিছু টাকা দিতে চাইলে শিশুর মা টাকা গ্রহণ করেন নি।অনেক চেষ্টার পর টাকা দিতে ব্যর্থ হলে হান্নান মিয়া দ্রুত হাসপাতাল এলাকা ত্যাগ করে চলে যায়।
শিশুকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দেখে বলেন এটি পুলিশ কেস,থানায় গিয়ে আগে মামলা করতে হবে,তা না হলে তারা ভিক্টিমকে কোন ধরণের চিকিৎসা সেবা দিতে পারবেন না।
শিশুর মা তখন একাকী আলাদা একটি রুমে নিয়ে বিষয়টি জানতে চাইলে সে জানায় ওই টমটম চালক হান্নান তাকে নির্যাতন করেছে।
নির্যাতিত শিশুর কাছ থেকে পুরো বিষয় জানতে পেরে ভিক্টিমের পিতা সঙ্গে সঙ্গে মৌলভীবাজার মডেল থানায় “নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ সংশোধীত ২০২০ একটি মামলা দায়ের করেন যার মামলা নম্বর হচ্ছে ১৪/৮৩।
মামলা দায়েরের পর নির্যাতিত শিশুকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং বর্তমানে সেখানে তাকে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মুখলেছুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন এবং তিনি জানান ঘটনার পর থেকে ধর্ষক হান্নান পলাতক ছিলো । শক্রবার ১০ মার্চ দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৯ ঘটিকার সময় তাকে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ বাজার থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে । তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
Leave a Reply