1. nskibria2012@gmail.com : ns kibria : ns kibria
শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১৬ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গার গুলিতে বাংলাদেশি যুবক আহত

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫ বার পঠিত

উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে জুমার নামাজ শেষে বের হওয়ার সময় এক বাংলাদেশি যুবককে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে সশস্ত্র রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে পালংখালী ইউনিয়নের ১৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি-২ ব্লকে মসজিদে সুন্নাহর সামনে এ ঘটনা ঘটে।

গুলিতে ওবাইদুল হক লালু (৩০) নামে ওই যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি পালংখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চোরখোলা এলাকার আবুল হোসেন প্রকাশ ভুলুর ছেলে। স্থানীয়ভাবে ব্যবসার সঙ্গে জড়িত লালুকে প্রথমে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার মা সাইরা খাতুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় লালুর সঙ্গে কয়েকজন রোহিঙ্গার বিরোধ সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের দাবি, জমি নিয়ে বিরোধ, বকেয়া টাকা-পয়সার লেনদেন ও পূর্বশত্রুতার জেরে এ বিরোধের সূত্রপাত।

একপর্যায়ে অস্ত্রধারীরা লালুকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তাঁর ডান পায়ের গোড়ালিতে গুলি লাগে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় কয়েক দফা গুলির শব্দ শোনা যায়।

ঘটনার পর অস্ত্রধারীরা ক্যাম্পের কাঁটাতারসংলগ্ন এলাকা দিয়ে বাংলাদেশি বসতিপূর্ণ এলাকায় ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এতে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আহত লালুর বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমার ভাই মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় হঠাৎ তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। গুলিতে তার পায়ে আঘাত লাগে। পরে স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার চাই।’

স্থানীয় বাসিন্দা মরিয়ম বেগম বলেন, ‘জুমার নামাজের পর হঠাৎ কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনতে পাই। পরে জানতে পারি, একজন বাংলাদেশি যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।’

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজ মিয়া বলেন, ‘জুমার নামাজের পর কয়েকজন অস্ত্রধারী হঠাৎ গুলি করতে করতে কাঁটাতার পেরিয়ে বাংলাদেশিদের বসতিপূর্ণ এলাকায় চলে আসে। পরে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে আসায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।’

স্থানীয় বাসিন্দা নুর আয়েশার দাবি, গুলির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তিনি জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরমান আজাদ বলেন, ১৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কাঁটাতারের পাশে একটি মসজিদের সামনে স্থানীয় এক বাংলাদেশি দোকানদারকে সশস্ত্র রোহিঙ্গারা গুলি করেছে। এতে লালু নামের এক বাংলাদেশি নাগরিক আহত হয়েছেন।

তিনি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন, গুলিবর্ষণে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, রোহিঙ্গাদের ছোড়া গুলিতে এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন। ঘটনার পর ক্যাম্পের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ক্যাম্পের ভেতরে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার উদ্বেগজনক। রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে অবৈধ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও কঠোর অভিযান প্রয়োজন।

ঘটনার পর কাঁটাতারসংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ক্যাম্পের ভেতর থেকে অস্ত্র নিয়ে বাংলাদেশি বসতিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ ও গুলিবর্ষণের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..