1. nskibria2012@gmail.com : যুগ যুগান্তর : যুগ যুগান্তর kibria
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১২ অপরাহ্ন

জেএসএস-ইউপিডিএফ গোলাগুলি: গুলিবিদ্ধ ৭ বছরের শিশু, পাহাড়ে ফের ভারী অস্ত্রের মহড়া।

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৩ বার পঠিত

রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি:
পার্বত্য চট্টগ্রামে আঞ্চলিক সশস্ত্র দলগুলোর আধিপত্য বিস্তারের ভয়াবহ খেলায় ফের বলির পাঁঠা হলো এক নিষ্পাপ শিশু। আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার সময় রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার মাচালং নোয়াপাড়া গ্রামে চুক্তিপন্থী জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সন্তু গ্রুপ এবং চুক্তিবিরোধী ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) প্রসীত গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ চলাকালে দু’পক্ষের এলোপাতাড়ি গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছে ৭ বছরের এক ত্রিপুরা কন্যাসন্তান।

আহত শিশুর নাম কস্মিতা ত্রিপুরা (৭)। সে ১নং মন্দির ছড়ার বাসিন্দা উলেন্দ্র ত্রিপুরা ও মণিকা ত্রিপুরার মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ৯টায় হঠাৎ করেই মাচালং নোয়াপাড়া এলাকায় দুই পক্ষ মুখোমুখি গোলাগুলিতে লিপ্ত হয়। এতে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দু’পক্ষের ছোঁড়া গুলিতে হাতে গুরুতর আহত হলে শিশু কস্মিতাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মাচালং স্বাস্থ্য ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং চিকিৎসকরা হাত থেকে গুলি বের করেন।

এদিকে, এই মর্মান্তিক ঘটনার পর নিজেদের দায় এড়াতে সোশ্যাল মিডিয়ায় জেএসএস ও ইউপিডিএফ-এর সাইবার উইংগুলো পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু করেছে এবং একে অপরকে অভিযুক্ত করছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে তথাকথিত অধিকার আদায়ের দোহাই দিয়ে সৃষ্ট আঞ্চলিক সংগঠনগুলো পাহাড়ি ও বাঙালি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, চাঁদাবাজির এই অবৈধ অর্থ দিয়েই তারা প্রতিবেশী দেশগুলো থেকেই আধুনিক ও ভারী অস্ত্র সংগ্রহ করছে এবং তা দিয়ে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

আঞ্চলিক সন্ত্রাসীদের এই অস্ত্রবাজি ও ক্ষমতার লড়াইয়ে এর আগেও বলি হতে হয়েছে পানছড়ির বন্দনার মা, রূপসীর মা, বাঘাছড়ির রোমিও ত্রিপুরা, বান্দরবান রোয়াংছড়ির উমেপ্রু মারমা এবং বাঘাইছড়িতে লক্ষ্মীছড়ির বাস হেলপার সোহেলের মতো অসংখ্য নিরীহ মানুষকে। আজ আবার সেই তালিকায় যুক্ত হওয়া থেকে ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেল শিশু কস্মিতার নাম।

স্থানীয় অধিবাসীরা বলছেন, খাগড়াছড়ির পানছড়ি থেকে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলগুলোকে অবৈধ অস্ত্র সংগ্রহের প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহার করে আসছে এই দলগুলো। এই রুটগুলোর একক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে বিগত বছর থেকেই সন্ত্রাসী গ্রুপ দুটি একে অপরের বিরুদ্ধে অতিমাত্রায় সক্রিয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..