1. nskibria2012@gmail.com : ns kibria : ns kibria
সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৪৩ অপরাহ্ন

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে কমিউনিটি ক্লিনিকে ঝুঁকি নিয়ে চলছে চিকিৎসাসেবা

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৮ বার পঠিত
১৯

কুমিল্লা প্রতিনিধি

ঝুঁকিপূর্ণ নাঙ্গলকোটের রামেরবাগ কমিউনিটি ক্লিনিক।

নাঙ্গলকোটে একটি কমিউনিটি ক্লিনিক দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। উপজেলার বাঙ্গড্ডা ইউনিয়নের রামেরবাগ কমিউনিটি ক্লিনিক ভবনের মূল পিলার ভাঙা, ছাদ চুইয়ে বৃষ্টির পানি পড়া, দরজা বন্ধ না হওয়া, বৈদ্যুতিক মিটার ও মোটর অচল নষ্টসহ নানা সমস্যায় ঝুঁকি নিয়ে চলছে চিকিৎসাসেবা। এতে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

জানা যায়, ২০১৪ সালে তৃণমূল মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে রামেরবাগ কমিউনিটি ক্লিনিকটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ভবনটির বিভিন্ন অংশে নিম্নমানের নির্মাণকাজের অভিযোগ রয়েছে। গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে ছাদ চুইয়ে নিয়মিত পানি পড়ে ক্লিনিকের ভেতরে। এতে মেঝে পানিতে ভেসে যায় এবং বিভিন্ন স্থানে শ্যাওলা জমে ভবনটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ক্লিনিকটির ভবনের মূল পিলার ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। মূল দরজাসহ বিভিন্ন কক্ষের দরজা ঠিকমতো বন্ধ করা যায় না। কোনো কোনো দরজা রশি দিয়ে বেঁধে রাখতে হয়। ফলে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী সংরক্ষণেও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির সময় ওষুধ রাখার বক্সেও পানি পড়ে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ছাড়া ক্লিনিকের ভেসিন ও বৈদ্যুতিক মোটর নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। বৈদ্যুতিক পাখাগুলোতেও মরিচা ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভবনের মেঝের বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। স্টোরকক্ষসহ একাধিক কক্ষের দরজাও ব্যবহার অনুপযোগী।

স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতিও রয়েছে ক্লিনিকটিতে। সেখানে রক্তচাপ মাপার যন্ত্র (বিপি মেশিন), গ্লুকোমিটার ও ওজন মাপার যন্ত্র নেই। রোগীদের বসার জন্য পর্যাপ্ত চেয়ার-টেবিলও নেই। তবে স্থানীয়দের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ক্লিনিকটিতে ২২ ধরনের ওষুধ রয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় নাগরিক ফাতেমা ও আকলিমা আক্তার বলেন, ক্লিনিকটির ভবনটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়ে ভেতরে পানি পড়ে। ভাঙা পিলার দেখেও ভয় লাগে। চিকিৎসা নিতে এসে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয়। প্রয়োজনীয় কিছু যন্ত্র না থাকায় অনেক সময় এখান থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যায় না।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ক্লিনিকটির ভবন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার কিংবা নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হোক। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করা হলে রামেরবাগসহ আশপাশের গ্রামের বিপুলসংখ্যক মানুষ আরও কার্যকর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পাবেন।

ক্লিনিকে দায়িত্ব পালনকারী কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) রেহানা আক্তার বলেন, ভবনটি নির্মাণের পর থেকেই বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। বর্ষায় ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে ফ্লোর ভেসে যায়। মূল দরজাসহ অন্যান্য দরজাও ঠিকমতো বন্ধ করা যায় না। ফলে ক্লিনিকটি নিরাপত্তাহীন অবস্থায় রয়েছে। ভবনটি পূর্ণাঙ্গভাবে পুনর্নির্মাণ অথবা সংস্কার করা হলে এখান থেকে আরও কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জয়নুল আবেদীন বলেন, স্থানীয় স্বাস্থ্য পরিদর্শকের মাধ্যমে কমিউনিটি ক্লিনিকটির বর্তমান অবস্থা খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..