মোঃ মামুন শেখ
গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে গাইবান্ধার নিম্নাঞ্চলের আমন ধানের ১৩২ হেক্টর বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এরমধ্যে সাড়ে ৩৩ হেক্টর বীজতলা সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়ে গেছে। নষ্ট হওয়া বীজতলা আবার তৈরির প্রস্তুতি নিতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ ও সময় অপচয়ের মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ থেকে জানানো হয়, জেলার সাতটি উপজেলার মধ্যে গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলা নদীবেষ্টিত। এসব এলাকায় প্রায় ১৬৫টি ছোট-বড় চর রয়েছে- যা সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায়।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানায়, চলতি মৌসুমে গাইবান্ধা জেলায় ১ লাখ ৩৩ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জেলাজুড়ে ৭ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছিল। তবে টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ৩৩ হেক্টর বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে।
৫ দিনের টানা বর্ষণে পানির নিচে হাতিয়া, ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির আশঙ্কা
কৃষকদের ভাষ্য, সাধারণত জ্যৈষ্ঠের মাঝামাঝি থেকে আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত বীজতলা তৈরি করা হয় এবং শ্রাবণের শুরু থেকে ভাদ্রের মাঝামাঝি পর্যন্ত মাঠে চারা রোপণ চলে। এবারও সঠিক সময়ে বীজতলা তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু টানা বৃষ্টি এবং নদ-নদীর পানি বাড়ার কারণে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে চারা গাছে পচন ধরেছে।
স্থানীয় কৃষক আফজাল হোসেন বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে তার সব চারা নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে হচ্ছে। এটা ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ।
শহিদুল ইসলাম নামে আরেক কৃষক জানান, আট বিঘা জমিতে আমন চাষের জন্য তৈরি ২৫ শতক জমির চারা এক সপ্তাহ পানির নিচে থাকায় পচে গেছে। চারা পচে যাওয়ায় এখন চড়া দামে বাজার থেকে বীজ কিনে বা অন্য কৃষকের কাছ থেকে চারা কিনে রোপণ করতে হবে- যা উৎপাদন খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বীজতলা নিয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।