1. nskibria2012@gmail.com : যুগ যুগান্তর : যুগ যুগান্তর kibria
সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ন

সোনাতলা সদর ইউপিতে তরুণ প্রার্থী পাভেলকে ঘিরে নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশ

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৮ বার পঠিত

বগুড়া জেলা প্রতিনিধি:
সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। এরই মধ্যে বগুড়ার সোনাতলা সদর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা, হিসাব-নিকাশ ও চুলচেরা বিশ্লেষণ। চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে হাট-বাজার, পাড়া-মহল্লা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই ঘুরেফিরে আসছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম।
এরই মধ্যে তরুণ প্রজন্মের প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন সোনাতলা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পাভেল আহম্মেদ। স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা এবং তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে তাকে ঘিরে নতুন প্রজন্মের একটি অংশের আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ের একটি স্থানীয় প্রতিবেদনে তাকেও সোনাতলা সদর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তালিকায় রাখা হয়েছিল।
নির্বাচন ঘিরে সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশার জায়গাটিও এবার ভিন্ন। অনেকেই বলছেন, দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি প্রার্থীর ব্যক্তিগত সততা, মানুষের পাশে থাকার মানসিকতা, নেতৃত্বের সক্ষমতা এবং এলাকার উন্নয়ন নিয়ে বাস্তব পরিকল্পনাকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে পাভেল
পাভেল আহম্মেদের দেওয়া রাজনৈতিক পরিচিতি অনুযায়ী, তিনি ২০০৩ সাল থেকে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ২০০৩–২০০৭ সাল পর্যন্ত সোনাতলা সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি, ২০০৭–২০০৯ সালে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, ২০০৯–২০১৪ সালে সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ২০১৪–২০১৮ সালে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এরপর ২০১৮–২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি সোনাতলা উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি সোনাতলা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে তার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। স্থানীয় সংবাদ প্রতিবেদনেও তাকে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাভেলের ভাষ্য, রাজনৈতিক জীবনে তার বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা হয়েছে এবং বিস্ফোরক মামলায় আসামি হয়ে তিনি ১৬৬ দিন কারাবন্দি ছিলেন। এসব তথ্য তার নিজের বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হলো; সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
তরুণদের চোখে কেমন জনপ্রতিনিধি?
সোনাতলা সদর ইউনিয়নের সম্ভাব্য নির্বাচনকে ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—নতুন প্রজন্ম এবার কেমন নেতৃত্ব চায়?
তরুণদের একটি অংশের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি হবেন এমন একজন, যিনি শুধু নির্বাচনের সময় নয়, বছরের প্রতিটি দিন সাধারণ মানুষের পাশে থাকবেন। শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থান, মাদকমুক্ত সমাজ, খেলাধুলার সুযোগ, রাস্তাঘাট ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সহজীকরণ এবং দুর্নীতিমুক্ত ইউনিয়ন পরিষদ—এসব বিষয়কে তারা গুরুত্ব দিতে চান।
নতুন প্রজন্মের ভোটারদের অনেকের কাছে নির্বাচন এখন শুধু প্রতীক বা ব্যক্তির পরিচয়ের বিষয় নয়; বরং এটি ভবিষ্যতের নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার একটি সুযোগ। তাই প্রার্থীর অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা, সামাজিক কর্মকাণ্ড, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা—সবকিছু বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে চান তারা।
‘তরুণ নেতৃত্ব’ নিয়ে প্রত্যাশা
পাভেল আহম্মেদকে ঘিরে সমর্থকদের প্রত্যাশা—দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে তিনি যদি ইউনিয়নের মানুষের জন্য একটি বাস্তবসম্মত উন্নয়ন পরিকল্পনা দিতে পারেন, তাহলে তরুণ ভোটারদের একটি অংশ তার প্রতি আগ্রহী হতে পারে।
তবে শেষ পর্যন্ত কার জনপ্রিয়তা কতটা, তা নির্ধারণ করবে ভোটারদের মতামত ও নির্বাচনের ফলাফল। বর্তমানে সোনাতলা সদর ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা চললেও চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ও নির্বাচনী পরিস্থিতি সময়ের সঙ্গে আরও পরিষ্কার হবে।
এখন নতুন প্রজন্মের সামনে প্রশ্ন একটাই—তারা কেমন ইউনিয়ন চায়, আর সেই ইউনিয়নের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য কাকে তারা উপযুক্ত মনে করে?
সোনাতলা সদর ইউনিয়নের নির্বাচনী মাঠে সেই উত্তরই ধীরে ধীরে স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..