1. nskibria2012@gmail.com : যুগ যুগান্তর : যুগ যুগান্তর kibria
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫০ পূর্বাহ্ন

জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে শৈশব রক্ষা ও মা-বাবাকে ঘরে ফেরানোর দাবি সন্তানদের

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৩ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

প্ল্যাকার্ড-ফেস্টুন হাতে মানববন্ধনে গ্রামীনফোনের সাবেক কর্মীদের সন্তানরা।
বাবা-মায়ের পাওনা আদায়ে এবার মানববন্ধনে যোগ দিয়েছেন গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীদের সন্তানরা। তাদের হাতের প্ল্যাকার্ড-ফেস্টুনে দীর্ঘ ১৬ বছরের বঞ্চনা শেষের আহ্বান, বিবর্ণ শৈশবে রং ফিরিয়ে দেওয়ার ন্যায়সঙ্গত দাবি এবং রাস্তার আন্দোলন থেকে বাবা-মাকে ঘরে ফেরানোর তীব্র আর্তনাদ।

গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীদের বিলম্ব বকেয়া পরিশোধের এই অপেক্ষা দীর্ঘ ১৬ বছরের। পাওনা আদায়ে তারা আন্দোলনে করছেন গত ২১ মাস ধরে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মানববন্ধন হয়। ‘গ্রামীণফোন ৫ শতাংশ বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে মুঠোফোন অপারেটরটির সাবেক কর্মীদের পাশাপাশি তাদের সন্তানরাও অংশ নেন।

মানববন্ধনে দাঁড়ানো সন্তানদের হাতে প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুনে লেখা—‘গ্রামীণফোন, আমাদের পরিবারকে আর অপেক্ষায় না রেখে দ্রুত সমাধান করো’, ‘আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা এখানে দাঁড়িয়ে থাকব’ কিংবা ‘আমাদের শৈশব বাঁচাও’।
তপ্ত রোদ উপেক্ষা করেই কর্মসূচিতে যোগ দেন তারা। গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মী সাদিয়া আফসিনের ছেলে আশফিখ বলেন, ‘১৬ বছর আগে শিশু ছিলাম। আজ তরুণ। আমাদের বাবা-মা তাদের মেধা ও সময় দিয়ে গ্রামীণফোনকে দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন। কিন্তু বিনিময়ে তারা কী পেলেন? আজ আমরা ভালো কলেজে ভর্তি হতে পারছি না। আমাদের ছোট ভাইবোনদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে বাবা-মাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। জেন-জি প্রজন্মের পক্ষ থেকে আমি দাবি জানাচ্ছি, সরকার ও গ্রামীণফোন যেন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে আমাদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দেয়।’

পাওনা আদায়ে এনবিআরের সামনে গ্রামীণফোনের চাকরিচ্যুত কর্মীদের সমাবেশরাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআরের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘গ্রামীণফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদের’ব্যানারে প্রতিবাদ সমাবেশে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক কর্মীরা। ছবি : স্ট্রিম
সাবেক কর্মী খালেদ মামুনের মেয়ে মুনীবা খালেদ বলেন, ‘প্রতিবছর গ্রামীণফোন হাজার হাজার কোটি টাকা লাভ করছে। অথচ যাদের রক্ত-ঘামে এই সাফল্য, সেই কর্মীদের পাওনা পরিশোধে তারা কেন এত টালবাহানা করছেন? আমাদের পরিবার ও ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাদের এই পাওনা পরিশোধ করতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।’

নাভীহা বলেন, ‘আমরা দান বা ভিক্ষা চাচ্ছি না। আমরা আইনসঙ্গত পাওনা চাচ্ছি। গ্রামীণফোনের প্যারেন্ট কোম্পানি টেলিনর বিশ্বজুড়ে মানবাধিকারের কথা বললেও তারা এখানে আমাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে। আইন মেনে অতি দ্রুত পাওনা মেটানোর দাবি জানাচ্ছি।’

আয়হান বলেন, ‘ইসলামী নীতি অনুযায়ী শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার পারিশ্রমিক দেওয়া উচিত। আমাদের বাবা-মায়ের পাওনা দ্রুত মেটানো না হলে তার দায় কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।’ সাফওয়ান নিয়ামিন বলেন, ‘আমরা চাই না বাবা-মায়েরা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে রাস্তায় থাকুক। আমরা শুধু চাই, তারা আন্দোলন ছেড়ে ঘরে ফিরে আসুক।’

এছাড়া রাই, মারজুকা, আমরিন, মোনতাহাসহ আরও অনেকে তাদের বাবা-মায়ের পাওনা দ্রুত পরিশোধের দাবি জানিয়েছে।

গ্রামীণফোনে চাকরিচ্যুতি নিয়ে নরওয়েতেই বিপাকে টেলিনরস্ট্রিম গ্রাফিক
‘গ্রামীণফোন ৫ শতাংশ বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর নেতারা জানান, কোম্পানির কাছে তাদের পাওনা ৩৬ হাজার ১৪৭ কোটি টাকার ৫ শতাংশ বা ১ হাজার ৮০৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। কিন্তু তারা দাবি করছেন মাত্র ১০ কোটি টাকা, যা আইনসঙ্গত পাওনার মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য শূন্য ৩ শতাংশ (০.০০৩%)।

সংগঠনের সদস্য এ কে এম খালেদ মামুন সাংবাদিকদের জানান, ‘২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ড (ডব্লিউপিপিএফ) ও ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার ফান্ড (ডব্লিউডব্লিউএফ) থেকে ৫ শতাংশ পাওনা গ্রামীণফোনের প্রায় ৪ হাজার ৩০০ সাবেক কর্মীর। কিন্তু কোম্পানি এত বছরেও তা পরিশোধ করেনি। গত ২১ মাস আন্দোলনের কারণে আমরা সন্তানদের ঠিকমতো সময় দিতে পারছি না।’

গত ৩ আগস্ট গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীদের পাওনা নিষ্পত্তি ও সম্ভাব্য সরকারি রাজস্ব আদায়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছিল সংগঠনটি। ৮ সেপ্টেম্বর আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনের সামনে মানববন্ধনও করেছে তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..