টাঙ্গাইলের প্রতিনিধি
টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলার আলোচিত কলেজ ছাত্র নাইম শেখ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মোঃ সোলায়মান শিকদার (৪২) কে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১৪,টাঙ্গাইল। র্যাব জানায়,প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে র্যাব নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে। খুন,ডাকাতি,সন্ত্রাস,মাদকসহ বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর অপরাধে জড়িত আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায়,সিপিসি-৩,র্যাব-১৪,টাঙ্গাইলের একটি চৌকস আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২১ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত আনুমানিক ১ টা ৩০ মিনিটে সদর কোম্পানি,র্যাব-১২,সিরাজগঞ্জের সহায়তায় সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গা থানাধীন ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে ফুড নাইট হোটেলের সামনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে টাঙ্গাইলের কালিহাতি থানার কলেজ ছাত্র নাইম শেখ হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত মোঃ সোলায়মান শিকদারকে গ্রেফতার করা হয়। র্যাব সূত্রে জানা যায়,হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই সোলায়মান শিকদার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অবশেষে তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়,নিহত কলেজ ছাত্র নাইম শেখ (১৭) টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি উপজেলার রামদেবপুর এলাকার ওসমান আলী শেখের ছেলে। অভিযুক্তদের সঙ্গে নিহতের পরিবারের দীর্ঘদিনের পূর্ব শত্রুতা ছিল। সেই বিরোধের জের ধরে গত ২৫ মার্চ-২০২৬ খ্রিস্টাব্দ সকাল আনুমানিক ৭ টায় নাইম শেখ নিজ বাড়ি থেকে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার বাহির বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সোলায়মান শিকদারসহ অন্যান্য আসামিরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও আঘাত করে তাকে গুরুতর জখম করা হয়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাইম শেখকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের পিতা ওসমান আলী শেখ বাদী হয়ে কালিহাতি থানায় পেনাল কোডের ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩০২/৫০৬/১১৪/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটির নম্বর-২১ এবং দায়েরের তারিখ ২৬ মার্চ-২০২৬। গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রব্যবস্থা গ্রহণেরহণের জন্য তাকে কালিহাতি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র্যাব জানিয়েছে,সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।