দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি,
দিনাজপুরে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র, ডাকাতির সরঞ্জামাদি এবং একটি পিকআপ ভ্যান জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুর ১২টায় দিনাজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্র্যাফিক) সুমন রঞ্জন সরকার।
গ্রেফতার ডাকাতরা হলেন গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী থানার জঙ্গল মুকন্দপুর গ্রামের মৃত মজলিশ শেখের ছেলে মো. সোহানুল ইসলাম, ভোলা জেলার ভোলা সদর থানার রাজাপুরা (পশ্চিম ইলিশা) এলাকার মৃত আ. গনির ছেলে মো. খলিল, গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়া থানার মুসুরিয়া গ্রামের মৃত মহানন্দ বালার ছেলে বরুন বালা, রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার মুরাদপুর গ্রামের মো. আবুল কালামের ছেলে মো. দুলাল মিয়া।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্র্যাফিক) সুমন রঞ্জন সরকার বলেন, গত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখ রাত ৭টা ৩৫ মিনিটে দিনাজপুর কোতয়ালী থানার বাহাদুর বাজার স্টেশন রোড এলাকার হোটেল রাজের তৃতীয় তলার ৩০৬ নম্বর কক্ষে কয়েকজন আন্তঃজেলা ডাকাত সদস্য দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ডাকাতির উদ্দেশ্যে সমবেত হয়েছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির একটি দল তাৎক্ষণিক অভিযান চালায়। অভিযানে ৪ জন আন্তঃজেলা ডাকাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, বিভিন্ন সরঞ্জামাদি এবং ঢাকা মেট্রো-ঠ ১১-৫৫২৩ নম্বরের একটি নিশান ডাবল কেবিন ক্যারি বয় পিকআপ উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেফতারদের দুই সহযোগী ভোলা জেলার চরফ্যাশন থানার মো. রোমান (২৮) ও মাদারীপুর জেলার কালকিনি থানার ভুরঘাটা এলাকার মো. রনি (২৪) ঢাকা মেট্রো-গ ১৭-৭৩৪০ নম্বরের একটি সাদা প্রাইভেটকারে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা স্বীকার করেছে যে, তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে মোবাইল টাওয়ারের পাওয়ার হাউজে সংরক্ষিত ব্যাটারি ও অন্যান্য মূল্যবান সরঞ্জাম কৌশলে ডাকাতি করত। ডাকাতির সময় সাধারণ মানুষ এবং টাওয়ারের নিরাপত্তাকর্মীদের বিভ্রান্ত করতে তারা নিজেদের বিভিন্ন ভুয়া কোম্পানির প্রকৌশলী, টেকনিশিয়ান ও চালক হিসেবে পরিচয় দিত এবং ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করত।
তিনি বলেন, গ্রেফতার ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।