1. nskibria2012@gmail.com : ns kibria : ns kibria
শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ন

নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরীকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও পাঠ্যপুস্তুকে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রীকে মনিরুল হক চৌধুরীর

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬
  • ১১ বার পঠিত
১৩

এম এস দোহা
নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরীকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেন কুমিল্লা ৬ আসনের এমপি মনিরুল হক চৌধুরী। তাঁর সংসদ সদস্যে পেডে স্বাক্ষরিত চিঠিতে তিনি নবাব ফয়জুন্নেসার অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
মনিরুল হক চৌধুরী এমপি চিঠিতে জানান,
বিশ্বের একমাত্র মুসলিম মহিলা নবাব, নারী শিক্ষার অগ্ৰদূত নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরাণী কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজলার পশ্চিমগাঁয়ে আনুমানিক ১৮৩৪ সালে জনুগ্রহণ করেন।
ধর্মভিরু তবে প্রগতিশীল এই নারী ছোটবেলায় গৃহশিক্ষকের নিকট আরবি, ফারসি, বাংলা ও সংস্কৃত এই চারটি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন। গৃহ শিক্ষক মৌলভী তাজউন্দীন ফয়জুন্নেছাকে গড় তোলেন একজন আলোকিত মানুষ হিসেবে। নবাব ফয়জুন্নেছার পিতা জমিদার আহমেদ আলী চৌধুরী ও মাতা আরফান্নেছা চৌধুরানী যক্ষা আক্রান্ত পিতাকে মাত্র ১০ বছর বয়সে হারিয়ে তার পরিবার এক মহা বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে।
১৮৬০ সালে ২৬ বছর বয়সে আত্মীয় জমিদার মোহাম্মদ গাজী চৌধুরীর সাথে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ১১ বছর তাদের দাম্পত্য জীবনের এক পর্যায়ে মান অভিমান ও শর্ত ভঙ্গের কারণে দূরত্ব সৃষ্টি হয় এবং তিনি পৈত্ৰিক বাড়ি পশ্চিমগাঁওয়ে ফিরে আসেন। পিতার রেখে যাওয়া জমিদারির অংশ ও স্বামীর সম্পদের হিস্যা লাভের মাধ্যমে তিনি জমিদারির মালিক হন। পরবর্তীতে দক্ষ পরিচালনা ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে ন্যায়পরায়ণ, শিক্ষানুরাগী ও পজাহিতৈশি জমিদার হিসেবে দেশ-বিদেশে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
নবাব ফয়জু্েছা চৌধুরাণী ১৮৭৩ সালে বেগম রোকেয়ার জন্মেরও ০৭ বছর আগে, আমার নির্বাচনী এলাকা ২৫৪, কুনিল্লা- ৬ এর অন্তর্গত কুমিল্লা শ‍হরের প্রাণকেন্দ্ৰ বাদুরতলায় “ফয়জুন্নেছা ইংরেজি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা করেন| পাশাপাশি নানুয়া দিঘির পাড়েও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়াও লাকসামে অবস্থিত ‘নওয়াব ফয়জুন্নেসা সরকারি কলেজ’টি তিনি প্রতিঠা করেন। অসংখ্য স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও এতিমখাার প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি অবদান রেখে গেছেন। তিনি ১৮৮৬ সালে ‘রুপ জালাল’ গন্থ রচনা করেন, যা ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলমান নারীদের লেখা ও প্রকাশিত প্রথম গ্ৰন্থ|
কখনো পালকিতে, কখনো ঘোড়ায় চড়ে জমিদারি পরিদর্শনে বের হতেন। প্রজা সাধারণের দুঃখ কষ্ট নিজের চোখে দেখে লাঘবের চেষ্টা করতেন। নারী পুরুষ সবার জন্য তাঁর দানের হস্ত ছিল প্রসারিত। শুধুমাত্র অর্থকড়ির মধ্যেই তার দান সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি মসজিদ, স্কুল, মক্তব, এতিমখানা, পুল- কালভার্ট ও শিল্প সাহিত্যের প্রসারসহ বিভিন জণকল্যানমূলক কর্মকাণ্ডে আবদান রেখেছেন।
তিনি যেমন ছিলেন ধর্মানুরাগী তেমনি ছিলেন সমাজসংস্কারক। তৎকালীন সমাজে ধর্মান্ধতা ও কুসংস্কারকে উপেক্ষা করে তিনি সমাজকে দেখিয়ে দিয়েছেন একজন নারী তার কর্মের মাধ্যমে কিভারে বিশ্বজয় করতে পারে। নবাব খেতাব প্রাপ্তির বিষয়টি তার অন্যতম দৃষ্টান্ত।
তংকালীন ব্রিপুরার (বর্তমান কুমিল্যা) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিস্টার ডগলাস একটি বিশেষ জনহিতকর কাজের জন্য অর্থ ঋণ চেয়ে বিভিন্ন জমিদারদের কাছে চিঠি পাঠান। কিন্তু এতে কেউ সাড়া না দিলেও ফয়জুন্নেছা ১লক্ষ টাকা দেন। পরবর্তীতে মি. ডপলাস এই ঋণের টাকা ফেরত দিতে গেলে জমিদার ফয়জুন্নেসা বলেন-” ‘ফয়জুন যা দেয়, তা দান হিসেবে দেয়, কৰ্জ হিসেবে নয়। ফয়জুন্নেসার এই উদারতার কথা বৃটেনের রাজপ্রাসাদেও আলোচিত হয়। মহারানী ভিক্টোরিয়া খুশি হয়ে এই মহি়সী নারীকে ১৮৮৯ সালে ‘ নবাব ‘ খেতাবে ভূষিত করেন|
১৮৯৩ সালে হজ্ব পালন করতে গিয়ে মক্কায় মুসাফিরখানা, নহরে জোবাইদা খাল পুন:খনন এবং মাদ্রাসাই সাওলাতিয়া প্রতিষ্ঠা করেন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি মক্কা ও মদিনায় প্রতিষ্ঠিত এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অর্থ সহযোগিতা পাঠাতেন। নিজ জমিদারির ১৪ টি মৌজায় প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরীর পাশাপাশি তিনি নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন বলে জানা যায়।
এছাড়া কুমিল্লায় শুধুমাত্র নারীদের চিকিৎসার জন্য তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘ফয়জুন জেনারেল হাসপাতাল’ যা বর্তমানে সদর হাসপাতালের সাথে নবাব ফয়জুন্নেসা ফিমেল ওয়ার্ড নামে পরিচালিত হচ্ছে।
মৃত্যুর পূৰ্বে নবাব ফয়জুন্নেসা জনকল্যাণে নিজ বাড়ি সহ ২৯৭ একর সম্পত্তি ওয়াকফ-রাহে -লিল্লাহ করে যান। সঠিক তত্ত্বাবধানের অভাবে যার অধিকাংশ‍ই এখন বেদখল হয়ে গেছে।
১৯০৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ৬৯ বছর বয়সে তিনি পরলোক গমন করেন।
২০১৭ সালে নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরাণীর পশ্চিমগাঁয়ের বাড়ি সহ ৪.৫৪ একর জায়গা গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রত্নততু সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করা হয়| যাতে ২০২৩ সালের ৬ নভেম্বর থেকে জাতীয় জাদুঘরের ৯ম শাখা হিসেবে নবাব ফয়জুন্নেসা জমিদার বাড়িতে জাদুঘরের কর্মকান্ড চলমান আছে।
২০০৪ সালে তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নবাব ফয়জুন্নেছাকে মরণোত্তর একুশে পদক প্রৰদান করেন|
সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরাণীর জন্ম-মৃত্যু দিবস পালন ও স্বাধীনতা পদক প্রদান এবং পাঠ্যপুত্তকে এই মহিয়সী নারীর জীবনী ও সাহিত্য কর্ম অন্তর্ভক্ত করাটা এখন সময়ের দাবী|
এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে আপনার সদয় নির্দেশনা প্ৰত্যাশা করছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..