1. nskibria2012@gmail.com : ns kibria : ns kibria
বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১১:৪২ অপরাহ্ন

বিজিবির প্রতিরোধে ৩ দিন পর পুশইনকৃতদের সরিয়ে নিলো বিএসএফ

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬
  • ১৫ বার পঠিত
১৮

বেনাপোল প্রতিনিধি
যশোরের বেনাপোল সীমান্তের শুণ্যরেখায় সাদিপুর মাঠে পুশইনের উদ্দেশ্য জড়ো করা কথিত বাংলাদেশিদের তিন দিন পর সরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফ। এতে উত্তেজনা কমেছে সীমান্তে।

বিজিবির দাবি, বেনাপোল সীমান্ত পথে বিজিবির কঠোর প্রতিরোধ ব্যবস্থায় বিএসএফ তাদের সরিয়ে নিয়েছে।

বুধবার সকালে সীমান্ত থেকে পুশইনের উদ্দেশ্যে জড়ো করা ব্যক্তিদের বিএসএফ সরিয়ে নিলে উত্তেজনা কমে আসে। এদিকে শূন্যুরেখা থেকে ওই ব্যক্তিদের সরিয়ে নেয়ার পর সীমান্ত থেকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবির অতিরিক্ত সদস্যও প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বর্তমানে সীমান্তের ওই এলাকায় স্বাভাবিক টহল চলছে।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (২ জুন) সাদিপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ পুশইনকে কেন্দ্র করে গত তিনদিন ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এসময় সীমান্তের শূন্যরেখায় বেশ কয়েকজন মানুষ আটকে থেকে মানবেতর জীবনযাপন ও করছিলেন।

স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এসব ব্যক্তিকে বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করে কোনো ধরনের দ্বিপক্ষীয় নিয়ম-নীতি অনুসরণ না করেই বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করে। এ উদ্দেশ্যে তাদের সীমান্তের শূন্যরেখায় বসিয়ে রাখা হয়। খোলা আকাশের নিচে প্রখর রোদ মাথায় নিয়ে ঝোপঝাড়ের মধ্যে অবস্থান করায় চরম দুর্ভোগে পড়েন তারা।

তবে আটকে থাকা ব্যক্তিরা বাংলাদেশি নাগরিকত্ব এমন কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র বা তথ্য না পাওয়ায় তাদের গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। নাগরিকত্ব যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

এর আগে রোববার (৩১ মে) রাতে বেনাপোল সীমান্তের ওপারে ভারতের হরিদাসপুর এলাকায় তিনটি ট্রাকে করে শতাধিক মানুষকে জড়ো করে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। সীমান্তের ভারতীয় অংশে আরও শতাধিক মানুষকে অবস্থান করিয়ে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র জানায়।

এদিকে অবৈধ পুশইনের আশঙ্কায় বেনাপোল সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে বিজিবি। সীমান্তের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন, রাতের টহল বৃদ্ধি এবং আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়। যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নেয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী শনাক্তকরণ ও উচ্ছেদ কার্যক্রম জোরদার হওয়ার পর থেকে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তেও। বিশেষ করে ভারতে জন্মগ্রহণকারী ও দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত অনেক মানুষের নাগরিকত্ব নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বেনাপোলের সাদীপুর গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আক্তারুজ্জামান লিটু জানান, সীমান্তে এখন আর ভিড় করা মানুষজনদের দেখা যাচ্ছেনা। তবে বিএসএফ অন্য সীমান্ত পথে তাদের ঢোকাতে পারে। তাই বিজিবিকে সতর্ক থাকতে হবে। দেশ প্রেমের জায়গা থেকে গ্রামবাসী সার্বিক সহযোগিতা করছে বিজিবিকে।

যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, বিএসএফ যদি প্রচলিত নিয়ম ও দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কাউকে ফেরত পাঠায়, তাহলে যাচাই-বাছাই শেষে তাদের গ্রহণ করা হবে। কিন্তু কোনো নিয়ম-নীতি না মেনে জোরপূর্বক কাউকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা মেনে নেয়া হবে না। মঙ্গলবার বিকাল থেকে সীমান্তে পুশইনের উদ্দেশ্যে জড়ো করা ব্যক্তিদের বিএসএফ সরিয়ে নেওয়ায় তাদের আর দেখা যাচ্ছেনা। তবে বিজিবি সতর্ক রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..