মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি,
নতুন সরকার গঠনের পর এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৭ জুন (বুধবার) চায়ের দেশ মৌলভীবাজার সফরে আসছেন। তার এই সফরকে ঘিরে জেলাজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। চা-বাগান ঘেরা সবুজ এই জনপদের মানুষের মাঝে বইছে বাড়তি উচ্ছ্বাস, প্রত্যাশা ও নানা সম্ভাবনার আলোচনার ঢেউ।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে একদিকে প্রশাসনিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে, অন্যদিকে চলছে সড়ক সংস্কার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। একই সঙ্গে জেলা থেকে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত বিএনপির নেতা-কর্মীরা সমাবেশ সফল করতে বৈঠক, আনন্দ মিছিল ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
প্রশাসন, বিএনপি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী বুধবার সকালে ঢাকা থেকে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে মৌলভীবাজারে পৌঁছাবেন। এরপর তিনি শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠ এবং পরে জেলা সদরের মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে উপস্থিত থেকে উপকারভোগীদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করবেন।
এই কর্মসূচির আওতায় রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫৫টি পরিবার এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫২টি পরিবারকে তৃতীয় পর্যায়ের পাইলটিং কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নির্বাচিত প্রতিটি পরিবার প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে জেলা শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সড়ক সংস্কার এবং সৌন্দর্যবর্ধন কাজ জোরদার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, সভাস্থল ঘিরে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। মাঠে প্যান্ডেল নির্মাণ, ইট-বালু ফেলা, সীমানাপ্রাচীরে রং করা এবং আশপাশের এলাকা পরিষ্কার করা হচ্ছে। কোর্টরোডের দুই পাশ থেকে ভ্রাম্যমাণ দোকান সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে মৌলভীবাজারে একটি মেডিক্যাল কলেজ ও একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং প্রবাসীবহুল ও পর্যটনসমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে শমশেরনগর বিমানবন্দর চালুর দাবি।
এদিকে মৌলভীবাজারে তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বিএনপির নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই সফরকে ঘিরে চলছে আলাপ-আলোচনা।
মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান বলেন, আমরা নির্বাচনের সময় বিভিন্ন কমিটমেন্ট করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে খুবই সচেতন। আমরা জেলার জন্য তিনটি বিষয় দাবি করেছিলাম, মেডিক্যাল কলেজ, শমসেরনগর বিমানবন্দর চালু এবং বিশ্ববিদ্যালয়। ১৭ জুন এই দাবিগুলো প্রধানমন্ত্রী কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করব।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন বলেন, মৌলভীবাজারের মানুষের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। প্রধানমন্ত্রীর সফর জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে আমরা আশা করছি।
মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জনগণের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে।’
জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর মৌলভীবাজার সফরকে ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।’