মোঃ সাবির উদ্দিন রাজু
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একটি বাজারের নামকরণ নিয়ে এক যুগের দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মাসুদ মিয়া (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে রেলপথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় কিশোরগঞ্জ-ভৈরব রুটে দীর্ঘ সময় ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়।
আজ সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এ সংঘাতের ঘটনা ঘটে। নিহত মাসুদ মিয়া মিরারচর এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আকবরনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি বাজারের নামকরণ নিয়ে আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামের মানুষের মধ্যে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে সোমবার সকালে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত মাসুদ মিয়াকে উদ্ধার করে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সংঘর্ষের কারণে নিরাপত্তাজনিত কারণে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এর ফলে কিশোরগঞ্জগামী ‘কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস’ মেথিকান্দা স্টেশনে, ‘এগারোসিন্দুর প্রভাতী’ ভৈরব স্টেশনে এবং চট্টগ্রামগামী ‘বিজয় এক্সপ্রেস’ কুলিয়ারচর স্টেশনে আটকা পড়ে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার খলিলুর রহমান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত সুরক্ষার স্বার্থে ট্রেনগুলো সাময়িকভাবে নির্ধারিত স্টেশনগুলোতে আটকে রাখা হয়।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিমন বোস জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “নিহত যুবকের মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল সম্পন্ন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”