মোঃ আব্দুল রহমানঃ
শাহআলী থানাধীন এলাকায় পূর্ববিরোধের জেরে এক যুবককে মারধর এবং মাথায় স্ক্রু-ড্রাইভার ঢুকিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করে শাহআলী থানায় এজাহার দেওয়া হয়েছে।
আহত যুবকের নাম মোঃ সাগর। তিনি মিরপুর-১ উত্তর বিশিল এলাকার বাসিন্দা।
আসামিদের সঙ্গে সাগরের বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে গত ২০ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে শাহআলী থানাধীন হযরত শাহআলী (রহ.) মাজার শরীফের প্রশাসনিক ভবনের সামনে সাগরকে ঘিরে কয়েকজন গালিগালাজ শুরু করেন।
এ সময় সাগর প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা তার ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। হামলাকারীদের একজন ধারালো স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে সাগরের মাথায় আঘাত করেন। পরে আরেকজন হত্যা নিশ্চিত করার জন্য হাতুড়ি দিয়ে স্ক্রু-ড্রাইভারের পেছনে আঘাত করে সেটি মাথার বাম পাশে কানের ওপরের অংশে ঢুকিয়ে দেন।
এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিলেন মোঃ সজল, মোঃ সজীব, মোঃ বাবু ওরফে ছাগল বাবু, মোঃ সোহেল ওরফে মুরগি সোহেল এবং মোঃ রিপনসহ অজ্ঞাত আরও।
হামলার পর অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দেন।
হামলায় গুরুতর আহত হয়ে সাগর জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে আইসিইউ সংকটের কারণে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছিলো। পরবর্তী দুই দিন চিকিৎসা চলাকালীন সময় তিনি মারা যায়।
ঘটনাটি ঘটে ২০ সেপ্টেম্বর রাতে। পরদিন সকালে শাহ আলী থানায় মামলা করতে গেলে তারা মামলা না নিয়ে তাদের অপেক্ষা করতে বলেছে। পরে ২২ তারিখে এ মামলা নিয়েছে শাহ্ আলী থানা পুলিশ। এখন পর্যন্ত উল্লেখিত কোন আসামী গ্রেফতার হয়নি। এর কারণ কী? আসামীদের নাম উল্লেখ করে মামলা করার পর ও কেনো পুলিশ তাদের ধরতে পারছে না? পুলিশ কী তাহলে অক্ষম? সাধারণ মানুষের মনে এমন হাজারো প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।