মনিরামপুর(যশোর)
প্রতিনিধি
যশোরের মনিরামপুর সদর ইউনিয়নের বাকোশপোল গ্রামের একটি রাস্তার পুরোনো ইটের সলিং তুলে নেওয়ার হলেও সংস্কারকাজ শুরু হয়নি। ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে প্রকল্পের মেয়াদ। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে রাস্তাটিতে পানি জমে কাদার সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৭–৮ বছর ধরে বাকোশপোল গ্রামের রাস্তাটিতে ধাপে ধাপে ইটের সলিং করা হয়েছিল। কয়েক মাস আগে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলে ওই সলিং তুলে নেওয়া হয়। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন করে রাস্তার কাজ শুরু হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাকোশপোল গ্রামের সিদ্দিক মোড়ের অদূরে গয়েশপুর নিমতলা মোড়মুখী আব্দুল কাদের চৌকিদারের বাড়ি থেকে গোবিন্দ মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৭০০ ফুট সলিং তুলে নেওয়া হয়েছে। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানি জমে কাদায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে মসজিদের সামনে ও সড়কের মন্দিরের অদূরের অংশে পানি-কাদায় চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দরপত্রের মাধ্যমে ১ কোটি ৪৬ লাখ ৭০ হাজার ৫১০ টাকা ব্যয়ে মনিরামপুর উপজেলার শ্যামকুড়, হেলাঞ্চি ও বাকোশপোল গ্রামে মোট ১ দশমিক ৯৮০ কিলোমিটার রাস্তা হেরিং বন বন্ড (এইচবিবি) সলিংয়ের কাজ পায় বাঘারপাড়া উপজেলার মেসার্স তন্নি এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আবু হুরায়রা। গত ৩১ মার্চ কাজ শুরু করে ১০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হেলাঞ্চি ও শ্যামকুড় এলাকার কাজ শেষ করলেও বাকোশপোল গ্রামের আব্দুর রশিদের বাড়ি থেকে আব্দুল গফুরের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৬৫০ মিটার রাস্তার কাজ এখনো শুরু করেনি।
মনিরামপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিস্তার ফারুক বলেন, এইচবিবি সলিংয়ের জন্য টেন্ডার হওয়ার পর ইউনিয়ন পরিষদের সলিংয়ের ৬০০ থেকে ৭০০ ফুট পুরোনো ইট তুলে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ইট কাজে ব্যবহার করা হয়েছে এবং কিছু পরিষদের পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। ইট তুলে নেওয়ার পর বৃষ্টির কারণে ঠিকাদার কাজ করতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি। কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য ঠিকাদার ও পিআইও দপ্তরে একাধিকবার তাগাদা দিয়েছেন বলেও জানান চেয়ারম্যান।
ঠিকাদার আবু হুরায়রা বলেন, মনিরামপুরে তিনটি রাস্তার মধ্যে দুটির কাজ শেষ হয়েছে। বৃষ্টির কারণে বাকোশপোলের রাস্তাটির কাজ করা সম্ভব হয়নি। দ্রুত কাজ শুরু করে শেষ করার আশ্বাস দেন তিনি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সেলিম খান বলেন, ঠিকাদারকে জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার সময় দেওয়া হয়েছিল। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি আর সময় বাড়ানোর আবেদন করেননি। কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। কাজ সম্পন্ন না করলে ঠিকাদারকে বিল দেওয়া হবে না।