নিজস্ব প্রতিবেদক :
ইসরাইলের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা নিয়ে বিএনপিতে চলছে গোপন আলোচনা। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই বিএনপি ইসরাইলের সঙ্গে হাত মেলাতে চায় বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
বিএনপি ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র বলছে, বৈশ্বিক রাজনৈতিক পট দ্রুত পরিবর্তন হওয়ায় বিএনপিও সেই পরিবর্তনের সঙ্গী হতে চায়। ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে ইসরাইলের সঙ্গে কোন ধরনের যোগাযোগ নেই বেশিরভাগ মুসলিম দেশের। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে।
দেখা যাচ্ছে, ফিলিস্তিনের ওপর যতোই অত্যাচার করা হোক, মুসলিম বিশ্ব এখনো চুপ করে আছে। কাতার সর্বশেষ ইসরাইলের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছে এবং তাদের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ সারাবিশ্বেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে ইসরাইল। তাই এসব বিবেচনা করেই রাজনৈতিক দল হিসেবে ইসরাইলের সঙ্গে সখ্যতা গড়তে চায় বিএনপি।
ইসরাইলের সহায়তায় দেশীয় ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে সরূপে ফিরতে চায় দলটি। এছাড়া ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত ও চীনের মতো শক্তিশালী রাষ্ট্রের ভালো বন্ধুত্ব রয়েছে। তাই ইসরাইলের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে মুখ ফিরিয়ে নেয়া শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর বন্ধুর তালিকায় পুনরায় স্থান করে নিতে চায় বিএনপি।
জানা গেছে, ইসরাইলের সঙ্গে গোপন বন্ধুত্ব স্থাপনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে চলতি মাসের শেষে তারেক রহমানকে জানাবেন বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতা। বিএনপি নেতারা ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের আঞ্চলিক এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করবেন বলেও জানা গেছে। প্রয়োজনে বিএনপির দু-একজন শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা বাংলাদেশে গোপনে ইসরাইলের বিজনেস ও পলিটিকাল ফ্রন্টম্যান হিসেবেও কাজ করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তবে যেহেতু বাংলাদেশের বড় একটি অংশ ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে ইসরাইলবিরোধী, তাই ইসরাইলের সঙ্গে বন্ধুত্বের বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত গোপনে কাজ করতে চান বিএনপি নেতারা।
সূত্র বলছে, ইসরাইলকে নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে। তাই বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইসরাইলের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে গেলে আগুন নিয়ে খেলা করা হবে বলেও বিএনপিতে গুঞ্জন উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে, দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের চোখে ভিলেনে পরিণত হবে বিএনপি। এমনকি জনবিচ্ছিন্ন হওয়ারও শঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন বিএনপির বুদ্ধিজীবীদের একটি অংশ। তাই বিষয়টি নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তারা।
এর আগে, বাংলাদেশের একটি জাতীয় দৈনিকে বিএনপির যুগ্ন-মহাসচিব আসলাম চৌধুরীকে নিয়ে কিছু সংবাদ প্রচারিত হয়। যেখানে বলা হয়, আসলাম চৌধুরী ভারতে গিয়ে ইসরায়েলের ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির নেতা মেন্দি এস সাফাদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসব প্রতিবেদনের সঙ্গে কিছু ছবিও সংযুক্ত ছিল যেগুলোতে সাফাদির সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল আসলাম চৌধুরীকে দেখা যায়। সাফাদির ফেসবুকেও এ ধরণের কিছু ছবি পোস্ট করা হয়েছে।
সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের সরকারকে বেকায়দায় ফেলার ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্যেই আসলাম চৌধুরী ইসরায়েলি এই নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসব প্রতিবেদনে সাফাদি ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলেও উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তীতে কিছু টেলিভিশন চ্যানেল এবং পত্রিকার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে আসলাম চৌধুরী দাবি করেন, তার ঐ সফরটি ছিল ব্যক্তিগত এবং সাফাদি যে লিকুদ পার্টির নেতা সেটি তিনি জানতেন না।
Leave a Reply