সিলেট প্রতিনিধি :
সিলেটে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে সিরাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় সিলেটের বাদাঘাট এলাকায় নতুন কারাগারে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। নতুন কারাগারে এটাই প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা।
সিরাজুল ইসলাম হবিগঞ্জের রাজনগর কবরস্থান এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে। হত্যাকাণ্ডের ১৭ বছর পর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলো।
সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার মুজিবুর রহমান বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে সিরাজের ইচ্ছে অনুযায়ী তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার ব্যবস্থা করা হয়। ফাঁসির মঞ্চে ওঠার আগে সিরাজ খুব শান্ত ছিলেন। কারারীতি অনুযায়ী ফাঁসির মঞ্চে তোলার আগে সিরাজকে গোসল করানো হয়। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে তওবা পড়ানো হয়। রাত ১১টায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেন জল্লাদ শাহজাহান। তাকে সোমবার বিকেলে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে কাশিমপুর কারাগার সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে আসা হয়। শাহজাহান যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছিলেন।
জানা গেছে, ২০০৪ সালে পারিবারিক বিরোধের জেরে স্ত্রী সাহিদা আক্তারকে শাবল ও ছুরি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। ওই বছরের ৭ মার্চ তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন নিহতের ভাই। দীর্ঘ শুনানির পর ২০০৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল সিরাজের মৃত্যুদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানার রায় ঘোষণা করে। রায়ের বিরুদ্ধে সিরাজ হাইকোর্টে জেল আপিল করেন। পরে ডেথ রেফারেন্সের আলোকে ২০১২ সালের ১ আগস্ট হাইকোর্ট সিরাজের আপিল নিষ্পত্তি করে মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখেন। এরপর সিরাজ সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে পিটিশন দাখিল করেন। ২০২০ সালের ১৪ অক্টোবর শুনানি শেষে আপিল বাতিল করে ডেথ রেফারেন্সের সিদ্ধান্তই বহাল রাখে আপিল বিভাগ। এরপর সিরাজ প্রাণভিক্ষা চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেন। চলতি বছরের ২৫ মে রাষ্ট্রপতি সে আবেদন নামঞ্জুর করেন।
Leave a Reply