নরসিংদীপ্রতিনিধি
নরসিংদীর রায়পুরায় প্রবাসীর স্ত্রীকে টিকা দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ, অত:পর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে মারা চেষ্টা। শনিবার রাতে উপজেলার উত্তরবাখর নগর ইউপির লোচনপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অগ্নিদগ্ধ পারভিন বেগম জানায়, তার স্বামী প্রবাসের থাকার কারণে প্রায় সময় শ্বশুর বাড়ীর লোকজন তার ও সন্তানের ওপর কারণে-অকারণে নির্যাতন করতো। বছরখানেক আগে পারভিনের দেবর আলী হোসেন তার সন্তানের পায়ে দা দিয়ে কোপ দেয়। নাতনীর পায়ে কোপ দেওয়ার ঘটনায় পারভিনের বাবা দানা মিয়া থানায় একটি মামলাও করেছিলেন। এরপর থেকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন মামলা তুলে নিতে পারভিনের উপর চাপ প্রয়োগ করে আসছিল এবং নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে সে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়ি সোবানপুরে গিয়ে উঠতে বাধ্য হয়। এরই জেরে শনিবার টিকা দেওয়ার নাম করে পারভিনকে বাবার বাড়ি থেকে মরজাল শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যায়।
সম্প্রতি টিকা কার্যক্রম শুরু হলে পারভিনের শাশুড়ি ও ননদেরা টিকা দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করতে থাকে। তাদের এই উৎসাহে ও ফোন পেয়ে সে শনিবার শ্বশুরবাড়ি যায়। বিকেলে দেবর আলী হোসেন, ননদের ছেলে শাহরিয়ার, ননদ তাসলিমা বেগম ও জা রহিমা বেগমের সঙ্গে শ্বশুরবাড়ি থেকে অটোতে টিকা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়। অটোতে উঠে কিছুক্ষণ পর তার চোখমুখ বেধে ফেলে। সন্ধ্যার পর তার দেবর কোন নির্জন স্থানে নিয়ে অটো থেকে নামিয়ে তাকে ধর্ষণ করে বলে জানায় পারভিন বেগম। পরে আবার অটোতে উঠিয়ে এদিক সেদিক ঘুরতে থাকে। এক পর্যায়ে তার দেবর তরল জাতীয় কিছু শরীরে ঢেলে দিয়ে অটো থেকে টেনে নিচে নামিয়ে এনে আগুন ধরিয়ে দেয়।
রায়পুরা-বারৈচা সড়কের পাশে লোচনপুর এলাকার একটি বাঁশঝাড়ের পাশে অগ্নিদগ্ধ নারীর আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। তার শরীরে পানি ঢালতে থাকে। এসময় মোবারক হোসেন স্থানীয় এক ব্যক্তি তাকে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।
রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের সহকারী সার্জন ডা: এ.কে.এম. রেজাউল ইসলাম খান জানান, পারভিনের পায়ের আঙ্গুল থেকে গলা পর্যন্ত প্রায় ৮০ ভাগ পুড়ে গেছে। এ অবস্থায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকা শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয় সাংবাদিকদের সহযোগিতায় রাত ১ টার দিকে তাকে ঢাকা পাঠানো হয়।
রায়পুরা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) গোবিন্দ সরকার বলেন, মামলা প্রক্রিয়াধীন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দেবর আলী হোসেন ও ননদের ছেলে শাহরিয়ারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনা উৎঘাটনে তদন্ত চলছে।
Leave a Reply