নিজস্ব প্রতিবেদক :
বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে নিজেদের মধ্যে হাতাহাতি-হট্টগোলে জড়িয়ে পড়েন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এর এক পর্যায়ে নেতাকর্মীদের ধাক্কায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ কয়েকজন নেতা পড়ে যান। এ সময় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে ভাঙচুরও চালায় নেতাকর্মীরা।
এ ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে চলছে সমালোচনার ঝড়। কেউ বলছেন, এর মাধ্যমে আবারো প্রমাণিত হয় বিএনপি একটি বিশৃঙ্খল রাজনৈতিক দল। তাদের নিজেদের মধ্যে কোনো ঐক্য নেই। তাই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আবার কেউ দাবি করছেন- এটাই বিএনপির আসল চেহারা
সরেজমিনে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি ফুলেল শ্রদ্ধা জানাতে স্মৃতিসৌধের বেদির দিকে এগিয়ে যান। এ সময় তার সঙ্গে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশারফ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, শ্যামা ওবায়েদসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন। সে সময় ঢাকা জেলা বিএনপি ও শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাকর্মীরা বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে এবং দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে আসতে স্লোগান ও বিশৃঙ্খলা ঘটাতে থাকে। এ অবস্থায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা অন্যদেরকে স্মৃতিসৌধে প্রবেশের সুযোগ করে দিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের সরে যেতে বলেন। এতে তারা সরতে রাজি না হয়ে উল্টো তেড়ে আসেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রবেশের পর থেকেই উচ্ছৃঙ্খলভাবে চলছিলেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। নিজেদের মধ্যে কয়েক দফায় দ্বন্দ্বে লিপ্ত হন তারা। হাতাহাতি-হট্টগোল করেন। ভাঙচুর করেন স্মৃতিসৌধে থাকা ফুলের টবও। সেখানে উপস্থিত মির্জা ফখরুল, রিজভীসহ অন্য নেতারা তাদের ধাক্কায় পড়ে যান। এ সময় আমান উল্লাহ আমানকে কর্মীদের দিকে উত্তেজিত হয়ে তেড়ে যেতে দেখা যায়।
Leave a Reply