নিজস্ব প্রতিবেদক :
মহানুভবতা দেখিয়ে শুধু কারামুক্তিই নয়, নিজের পছন্দমতো বিএনপি চেয়ারপর্সন খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে চিকিৎসারও সুযোগ দিয়েছে সরকার।
বর্তমানে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠছেন খালেদা জিয়া। আর গর্ভধারিণী মা ও দলীয় চেয়ারপার্সন ভালো হয়ে যাওয়ায় খবরে বিএনপির দণ্ডপ্রাপ্ত লন্ডনে পলাতক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মুখে হাসির পরিবর্তে কপালে দেখা দিয়েছে চিন্তার রেখা।
এদিকে হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলছেন, চিন্তার কোনো কারণ নেই। বিএনপি চেয়ারপার্সন সুস্থ হয়ে উঠছেন। শিগগিরই তিনি পরিবারের মাঝে ফিরতে পারবেন।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়া হাসপাতাল থেকে মুক্তি পেলেই বিএনপির রাজনীতি করার ইস্যু শেষ হয়ে যাবে। তাই সুস্থ হলেও কিংবা হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন না হলেও কৌশলে খালেদাকে হাসপাতালে রাখার শলা-পরামর্শ দিচ্ছেন তারেক।
তারেকের মতে, কোনোভাবেই যেন হাসপাতাল থেকে ছাড়া না পায় খালেদা জিয়া। এতে যদি তার কিছু হয়েও যায়, যাক। বরং কিছু হলেই বিএনপির লাভ!
নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যমতে, বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ খালেদার বর্তমানে লিভারের রক্তক্ষরণ হচ্ছে না। বরং তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, আর কিছুদিন পরই তিনি বাসায় ফিরতে পারবেন। করোনা কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) থেকে এরই মধ্যে তাকে কেবিনে পাঠানো হয়েছে।
আর এ খবর শুনেই মাথায় যেন বাজ পড়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। খাওয়া-ঘুম ফেলে তিনি বারবার ফোন করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও আব্দুল আউয়াল মিন্টুদের।
তারেকের নির্দেশ, কোনোভাবেই হাসপাতাল থেকে খালেদা জিয়াকে রিলিজ করানো যাবে না। তাহলে এতদিনের সব প্ল্যানিং শেষ হয়ে যাবে। সরকারকেও চাপে রাখা যাবে না। ইস্যুর সংকটে বিএনপির রাজনীতিও থমকে যাবে। কারণ, আমাদের হাতে এই মুহূর্তে আর কোনো ইস্যু নেই। এছাড়া সাংগঠনিক অবস্থাও তেমন মজবুত নয় যে, সম্মিলিতভাবে কিছু করে সরকারকে বিব্রত করা যাবে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, তারেক রহমান ক্ষমতা ও নিজের লাভের জন্য সবই করতে পারেন। সে মোতাবেকই অগ্রসর হচ্ছেন তিনি। প্রতিনিয়ত বুনছেন দেশবিরোধী নানা ষড়যন্ত্রের জাল। তা না হলে কেউ কি নিজের মাকে নিয়ে রাজনীতি করতে পারেন? তাকে মেরে ফেলে দলের মসনদে বসার স্বপ্ন দেখতে পারে? তবে তারেকের এটা মনে রাখা প্রয়োজন যে, পাপ কিন্তু বাপকেও ছাড়ে না। মার সঙ্গে এমন করছে, বৃদ্ধ বয়সে তার সন্তানরাও যে এমন করবে না, এরই বা কী গ্যারান্টি।
আক্ষেপের সঙ্গে তিনি আরো বলেন, এখানে খালেদা জিয়ারও ভুল আছে। ছেলেকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করা ঠিক হয়নি। কারণ তারেকের অতীত তো ভালো নয়। ক্ষমতায় থাকাকালীন কী করেনি সে। অর্থ-ক্ষমতার দম্ভে সবার সঙ্গে করতো চাকর-বাকরের মতো ব্যবহার। যা ইচ্ছে হতো, অগ্র-পশ্চাৎ ও ভালো-মন্দ বিচার না করেই করে ফেলতো। ভাবতো না, কোন মায়ের কোল খালি হচ্ছে কি না, কিংবা কেউ নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে কি না।
বরাবরই তারেকের এসব বিষয়ে দলের এক শ্রেণির নেতা সরব ছিল। সে সময় তাদের বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে দমিয়ে রাখে তারেক। যে ধারা এখনো চলমান।
Leave a Reply