মোঃ রমজান আলী।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শিক্ষক হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে, শতভাগ উৎসব ভাতা প্রদান এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণসহ ১১ দফা দাবি নিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয় । বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (BTA) এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে সভাপতিত্ব করেন অধ্যক্ষ মোঃ বজলুর রহমান মিয়া। মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (BTA) এর সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শেখ কাউসার আহমেদ । মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা মন্ডলীর অন্যতম সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য বাবু রঞ্জিত কুমার সাহা, সিনিয়র সহ সভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ আবুল কাশেম, সহ-সভাপতি আলী আসগর হাওলাদার ও বেগম নুরুন্নাহার , যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবু জামিল মোঃ সেলিম , সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ইকবাল হোসেন , অর্থ সম্পাদক মোস্তফা জামান খান , দপ্তর সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, সহ- মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শাহানা বেগম, দপ্তর সম্পাদক মোঃ রফিকুল ইসলাম কেন্দ্রীয় সদস্য প্রবীর রঞ্জন দাস, আদম আলী খানসহ প্রমুখ শিক্ষক নেতৃবৃন্দ।
মানববন্ধনে বক্তারা ঢাকা জেলার শিক্ষক হত্যা, নড়াইলের শিক্ষকের গড়ায় জুতার মালা পরানো সহ সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষকদের উপর নির্যাতনের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা সহ শিক্ষকদের মর্যাদা ও সম্মান পুনরুদ্ধারের পদক্ষেপ গ্রহণ করে সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন তারা মাত্র ২৫% উৎসব ভাতা, ১০০০ টাকা বাড়ি ভাড়া ও ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান । তারা আরো অভিযোগ করে বলেন শিক্ষকরা অবসরে যাবার পর অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পেতে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়। ফলে অনেক শিক্ষক- কর্মচারী টাকা পাওয়ার পূর্বে অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করেন ।
বক্তারা আরো অভিযোগ করে বলেন তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয় না ।
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির ( BTA) এর মূল দাবি মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ। মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ সহ মোট ১১ দফা দাবি তারা পেশ করেন। দাবি সমূহ হলঃ
১/ মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করা ।
২/আসন্ন ঈদুল আযহার পূর্বে সরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের ন্যায় পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা, বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা প্রদান।
৩/অবসর গ্রহণের ৬ মাসের মধ্যে অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা প্রদান ।
৪/স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমবিএমুক্ত করন।
৫/প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের বেতন স্কেল যথাক্রমে ষষ্ঠ ও সপ্তম গ্রেডে প্রদান।
৬/ শিক্ষক কর্মচারীদের জন্য বদলি প্রথা চালু করা ।
৭/ শিক্ষক কর্মচারীদের চাকরির বয়স ৬৫ বছরে উন্নীতকরন।
৮/ শিক্ষক নিয়োগ কমিশন গঠন।
৯/ করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত নন এমপিওভুক্ত ও শিক্ষক- কর্মচারীদের আর্থিক প্রণোদনা প্রদান।
১০/ ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ।
১১/ শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান সরকারি ও বেসরকারি সকল বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে শিক্ষানীতি ২০১০ এর দ্রুত বাস্তবায়ন।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন সারাদেশের শিক্ষক নির্যাতনের মহড়া চলছে। শিক্ষক নির্যাতন ও শিক্ষক হত্যা এখন একটি সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। তাই এমতাবস্থায় সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি সরকারের কাছে শিক্ষক হত্যা ও নির্যাতনের দ্রুত বিচার দাবি করছেন তারা। অন্যথায় সারা দেশের বিক্ষুব্ধ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীগণ কঠোর থেকে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা দিবেন।
Leave a Reply